২০১৩ সালের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা চারটি মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এসব মামলার মধ্যে ২০-দলীয় জোটের অংশীদার ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর ছেলে হারুন ইজহারের বিরুদ্ধে করা একটি মামলাও আছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এ কে এম শহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন ৩০টি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালের সহিংসতার ঘটনায় চারটি মামলা আছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি ও বিএনপির নেতা আবদুস সাত্তারের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে চট্টগ্রামে ২০১৩ সালে ২৩০টি মামলা হয়।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর নগরের লালখান বাজার এলাকায় মুফতি ইজহারের মাদ্রাসায় বিস্ফোরক
পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় করা মামলায় মুফতি ইজহার, তাঁর ছেলে হারুন ইজহারসহ নয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি এখন চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হবে।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে ডবলমুরিং এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় বিএনপির কর্মী সাত্তার হোসেন, মোহাম্মদ শামীমসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এই মামলার ২৭ আসামির প্রায় সবাই বিএনপিসহ ২০-দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থক। মামলাটি এখন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হবে।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ডবলমুরিং থানা এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির কর্মী ফজলুল হক, আকবর হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। এই মামলাও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট নগরের খুলশী থানা এলাকায় বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল। এটি এখন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হবে। মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, এই মামলার দুই আসামি বিএনপির সমর্থক সন্ত্রাসী।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন