ঝিনাইদহ-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ নবী নেওয়াজ চারটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকতে পারবেন। বাকিগুলোর পদ তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে যশোর শিক্ষা বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সাংসদ নবী নেওয়াজ আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকার পর আরও একটিতে সভাপতি হওয়ার জন্য আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছিলেন। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জিন্নানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার জন্য তিনি ওই পত্র দেন। এ নিয়ে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় ‘সাংসদের ইচ্ছায় কর্ম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব অসীম কুমার কর্মকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাংসদের পছন্দের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁকে সভাপতি রাখতে বলা হয়। বাকিগুলো তিনি যেন ছেড়ে দেন, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি বাজারে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জিন্নানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ৬১০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এই বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ভোটের মাধ্যমে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করা হয়। এরপর সভাপতি নির্বাচন করতে গেলে মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সাংসদ নবী নেওয়াজ নিজেই সভাপতি হতে পত্র দিয়েছেন। এ কারণে সদস্যদের ১৮ সেপ্টেম্বর সেখানে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে নির্বাচিত সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে সাংসদের নাম সভাপতি হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা বলেন, কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর অভিভাবক সদস্য নির্বাচন শেষ করা হয়। এরপর সাংসদের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করে অনুমোদনের জন্য বোর্ডে পাঠানো হয়।
বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবদুস সালাম বিশ্বাস বলেন, ‘চিঠির বিষয়ে শুনেছি। এখনো চিঠি হাতে পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন