বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে জেলাবাসী নদীর দুই পাড় দখলমুক্ত করে খননের দাবি তোলেন। এর ভিত্তিতে ২০০৫ সালে জেলা প্রশাসন নদীর দখলদার চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে। ২০০৭ সালে সদর উপজেলার চর শিবরামপুর থেকে পৌর এলাকার শালগাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত নদীর ৫ কিলোমিটার অংশে দখলদার শনাক্ত হয়। ২০০৭ সালে চিহ্নিত হয় ২৮৪ জন দখলদার। ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় স্বল্প পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু খননকাজ না হওয়ায় আবারও দখল হতে থাকে নদীর দুই পাড়। নদী উদ্ধার আন্দোলনে নামে জেলাবাসী।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলাবাসীর দাবি ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্প্রতি ৫ কিলোমিটার নদীর দখলদার উচ্ছেদের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা এবং খননের জন্য ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। বরাদ্দ অর্থে নদীর উৎসমুখ থেকে লাইব্রেরি বাজার সেতু পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান ও খননকাজ শুরু করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ৩০ মার্চ বাকি অংশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও তিন দিনের মাথায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এবারও নদীতে পানিপ্রবাহ নেই।

default-image

মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উচ্ছেদ ও খননের কারণে নদীর উৎসমুখ থেকে লাইব্রেরি বাজার সেতু পর্যন্ত ইছামতীতে পানি জমে আছে। কিন্তু ওই সেতু থেকে শালগাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত নদী শুকনা। বৃষ্টির ছিপছিপে পানিতে ময়লা–আবর্জনা ভাসছে। এতে মশামাছির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এই জমে থাকা পানি।

ইছামতী নদী উদ্ধার আন্দোলন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু প্রভাবশালী দখলদারের কারণেই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়ে আছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে। এরপরও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হচ্ছে না। বরাবরের মতোই পানিশূন্য থাকছে ইছামতী।

ইছামতী নদী উদ্ধার আন্দোলন কমিটির সভাপতি এস এম মাহবুব আলম বলেন, ইছামতীর দখলদার উচ্ছেদ ও খননের দাবি এখন জেলাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন–সংগ্রাম অব্যাহত আছে। যত দিন পর্যন্ত ইছামতী প্রবহমান না হবে, তত দিন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এ বি এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘ইছামতী প্রবহমান হলে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হবে। তাই কোনো প্রভাবের কাছে না হেরে, আমরা দখলদার উচ্ছেদ ও নদীর খনন চাই। আশা করছি, জেলাবাসীর দাবির প্রতি সম্মান রেখে পানি উন্নয়ন বোর্ড সে কাজ করবে।’

এ প্রসঙ্গে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম বলেন, ‘করোনাকালে বিভিন্ন কারণে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ছিল। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিগগিরই আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী একযোগে উচ্ছেদ ও খননকাজ শুরু করা হবে। আশা করছি, আগামী বর্ষায় ইছামতী প্রবহমান থাকবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন