default-image

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর ঢাকায় পিবিআইয়ের সদর দপ্তরে বহুল আলোচিত ওই মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লায় এটি জানাজানি হয়। এ নিয়ে গত প্রায় চার বছর আট মাসে  পাঁচবার তদন্ত কর্মকর্তা ও চারবার তদন্ত সংস্থা বদল হলো। কিন্তু  দীর্ঘ সময়ে এই মামলার তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। আসামিও শনাক্ত হয়নি। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ তনুর পরিবার।

পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তনু হত্যা মামলা সিআইডি থেকে পিবিআইতে এসেছে। পিবিআই সদর দপ্তর ওই মামলা তদন্ত করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরের কালভার্টের ২০ থেকে ৩০ গজ পশ্চিমে ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ বিকেলে তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এরপর প্রথমে ২০১৬ সালের ২১ মার্চ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। চার দিন পরেই ২৫ মার্চ মামলার তদন্ত দেওয়া হয় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মঞ্জুর আলমকে। এর পাঁচ দিন পরেই ১ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম। চতুর্থবার ২৪ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা বদল করে সিআইডির নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের তত্কালীন সহকারী পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) জালাল উদ্দিন আহম্মদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন


মামলার তদন্ত পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মদ মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আসামি শনাক্ত করতে পারিনি। তবে কয়েকজনের সঙ্গে ডিএনএ মেলানো ও জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত কাজ করেছি।’

এ নিয়ে চার বছরে পঞ্চমবারের মতো বদলাল তদন্ত কর্মকর্তা। থানা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি হয়ে চতুর্থ সংস্থা হিসেবে মামলার তদন্তভার পেল পিবিআই। এ নিয়ে জানতে চাইলে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা জালাল সাহেবের (তদন্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহম্মদ) প্রতি আমার কোনো আস্থা ছিল না। তিনি কালক্ষেপণ করেন। এখন পিবিআই তদন্ত গেল, দেখি কী হয়?’ ভরসা পাচ্ছেন না মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও। তিনি বলেন, ‘পাঁচবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলো। কিন্তু খুনি শনাক্ত হলো না। আল্লাহই জানেন শেষ পর্যন্ত কী হয়।’ তিনি জানান, ১৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে পিবিআইয়ের একটি দল কুমিল্লা সেনানিবাসে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0