বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, সারা দেশে ১৬৭টি চা-বাগান আছে। এখানে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যার ৫১ শতাংশই নারী। এই শ্রমিকদের পোষ্য আছে আরও পাঁচ লাখ মানুষ। চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুসদন এবং শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা—এই চার পরিমাপক নিয়ে সরকারের কাজ চলছে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই চা-শ্রমিকদের নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার, মালিকপক্ষ, স্থানীয় সরকার, চা বোর্ড, শ্রমিক—সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে।

দারিদ্র্যের বৃত্তে আটকে আছে চা-শ্রমিকের জীবন উল্লেখ করে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যাডভাইজার মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, চা-বাগানের শিশুরা অপুষ্টির কারণে খর্বাকৃতির হয়। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি, পয়োব্যবস্থায় সরকারের আরও কাজ করার সুযোগ আছে।

উন্নয়ন সংস্থা সিমাভির ওয়াশ অ্যালায়েন্স ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলক কুমার মজুমদার বলেন, সম্প্রতি চা-বাগান নিয়ে এক জরিপে দেখা গেছে, তিন ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছেন। নিরাপদ পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারছেন ৩ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ। ৯৫ ভাগ নারী মাসিক ব্যবস্থাপনায় নোংরা কাপড় ব্যবহার করেন।

আইন মানা না হলে চা-শ্রমিকদের সমস্যাগুলো থেকেই যাবে বলে মনে করেন কমলগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী। তিনি বলেন, স্যানিটেশন বা নিরাপদ পানি নিয়ে চা-বাগানে যেসব উন্নয়ন সংস্থার কাজ হচ্ছে, তা প্রকল্প শেষ হলেই ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মিতালী দত্ত বলেন, চা-শ্রমিকেরা এখনো খোলা জায়গায় মলত্যাগ করেন। তাঁদের আবাসনও নড়বড়ে। নারী শ্রমিকেরা এতটাই অসচ্ছল যে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনার টাকা থাকে না। ফলে তাঁরা জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকিতে আছেন। চা-শ্রমিকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করার পরামর্শ দেন তিনি।

ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্স (আইডিয়া) সিলেটের নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক বলেন, চা-বাগানের শিশুরা শিক্ষা-স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে পিছিয়ে। কর্তৃপক্ষ কতটুকু এসব নিশ্চিত করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার চা-বাগানের মানুষও সচেতনতার সামাজিক আন্দোলনে খুব একটা নেই।

সিটি গ্রুপ টি এস্টেটের মহাব্যবস্থাপক সেজাদ সারোয়ার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চা-শ্রমিকদের শিক্ষা, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সরকার ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে আমরা কাজ করতে আগ্রহী। একসঙ্গে কাজ করলে এখানে অবহেলা থাকবে না।’

চা-শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে মূল সমস্যা মজুরি বলে মনে করেন বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রাজু গোয়ালা। তিনি বলেন, মজুরির সঙ্গে জীবনমান সরাসরি সম্পর্কিত। দারিদ্র্যের কারণেই বাকি সমস্যাগুলো হচ্ছে। চা-শ্রমিকেরাও আর পিছিয়ে থাকতে চান না। রেশনে যে আটা ও চাল দেওয়া হয়, তা অনেক সময় খাওয়ার অনুপযোগী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ সেখ বলেন, চা-শ্রমিকদের যে আয়, তা দিয়ে নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ২০১০ সালে জাতিসংঘ নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশনকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য টেকসই ও মানসম্পন্ন নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য আছে।

বৈঠকে সূচনা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন