চায়ের ফ্লাস্ক হাতে ছুটে চলেন বাক্‌প্রতিবন্ধী যুবক মো. হাসান। ধানগড়া বাজার, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ১৬ আগস্ট।
চায়ের ফ্লাস্ক হাতে ছুটে চলেন বাক্‌প্রতিবন্ধী যুবক মো. হাসান। ধানগড়া বাজার, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ১৬ আগস্ট। ছবি: সাজেদুল আলম

যুবকটির নাম মো. হাসান আলী। সকাল হলেই ফ্লাস্কভর্তি চা নিয়ে বাজারের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান। ৩০ বছরের এই যুবক বাক্‌প্রতিবন্ধী। কারও চা–পানের ইচ্ছা হলেই ইশারায় ডাক দেন হাসানকে। প্লাস্টিকের মগে একবার চা পান করলে তাঁকে দিতে হয় পাঁচ টাকা। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারে প্রায় চার মাস ধরে এভাবেই চা বিক্রি করেছেন তিনি। কাজ করে অর্থ উপার্জন করায় আশপাশের মানুষও তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন, করছেন সহযোগিতা।

বিজ্ঞাপন

রোববার সকালে ধানগড়া বাজারে কথা হয় হাসানের বাবা আবদুল হান্নানের সঙ্গে। তিনি জানান, রায়গঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রণতিথা এলাকায় তাঁদের বাড়ি। স্ত্রী, দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে সংসার তাঁর। ধানগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ছোট্ট একটি হোটেল আছে তাঁর। ছেলে হাসান আলীকে নিয়ে সেই হোটেল চালাচ্ছিলেন। আর ছোট ছেলে ঢাকায় থাকেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সবকিছু ভালোই চলছিল। গত মার্চ মাসে করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই সময় বন্ধ হয়ে যায় তাঁর হোটেলটিও। পুরো সংসার নিয়ে পড়ে যান বিপাকে। অবশেষে বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলে হাসানের হাতে তুলে দেন চায়ের ফ্লাস্ক। সেই ফ্লাস্কে প্রতিবার ৪০ থেকে ৪৫ কাপ চা ধরে। দিনে ২০০ থেকে ২৫০ কাপ চা বিক্রি হয়ে থাকে। খরচ বাদে দিনে ৫০০-৬০০ টাকা হাতে থাকে। ফলে তাঁর সংসার আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

ধানগড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল্লাহেল কাফি জানান, আগে চা খেতে দোকান থেকে উঠে যেতে হতো। কিন্তু করোনার এই সময়ে চা দোকানে এসে যাচ্ছে। বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলেটার কাছ থেকে চা পান করে এক ধরনের সহযোগিতাও করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম রেজা খন্দকার জানান, অনেক সময় সুস্থ মানুষই কাজ করতে চান না। কিন্তু বাক্‌প্রতিবন্ধী হাসানের এ চেষ্টা সত্যিই দারুণ। তাঁর এ চেষ্টা সবার জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন