কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী, হোয়ানক ও শাপলাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছয় মাস আগে তিনজন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সপ্তাহে ছয় দিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে যান না। ফলে স্বাস্থ্যসেবা থেতে বঞ্চিত হচ্ছেন এই তিন ইউনিয়নের রোগীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো), একজন ফার্মাসিস্ট, একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা, একজন নিরাপত্তা প্রহরী ও একজন আয়া থাকার কথা।
২২ ফেব্রুয়ারি এই তিন ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে কোনোটিতেই চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি। মাতারবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক আবদুল মোমেন সপ্তাহে এক–দুই দিন কর্মক্ষেত্রে আসেন বলে জানান সাকমো মো. ইয়াকুব আলী। তিনি বলেন, দুই মাস প্রশিক্ষণ শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে কর্মস্থলে আসার কথা থাকলেও তিনি রোববার পর্যন্ত আসেননি। ফলে প্রতিদিন ৬০-৭০ জন রোগী দেখতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। হোয়ানক ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক হাফিজা মারজান গত চার মাস হাসপাতালে আসেননি। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন সাকমো আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ছয় মাস আগে নিয়োগ দেওয়ার পর এ পর্যন্ত কর্মস্থলে চারবার এসেছেন চিকিৎসক হাফিজা মারজান। শাপলাপুরের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও রোগীদের ভিড় সামলাচ্ছিলেন সাকমো মোশারফুল ইসলাম। তিনি জানান, সপ্তাহে দুই-তিন দিন চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার শীল কর্মস্থলে আসেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত না যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমি গত দুই মাস প্রশিক্ষণে ছিলাম। চলতি মাসের ১৪ তারিখ যোগদান করেছি। দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরে থাকায় নিয়মিত আসা হচ্ছে না।’
শাপলাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক সঞ্জয় কুমার শীল বলেন, ‘রোববার আমি ছুটিতে ছিলাম। এ কারণে কর্মস্থলে আসিনি। সপ্তাহে চার দিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাই। বাকি দুই দিন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করতে হয়।’
হোয়ানক ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা হাফিজা মারজানের বক্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগ করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সঞ্জয় কুমার শীল সপ্তাহে দুই দিন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করেন বললেও তাঁর বক্তব্যের সত্যতা মেলেনি। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের উপজেলা সদরে কাজ করানো হয় না। চিকিৎসকেরা নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান কিনা এটা জানা নেই। এই বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেনি। লিখিত অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখা হবে।
শাপলাপুর ইউনিয়নের ছাদেকারকাটার বাসিন্দা আব্দুল মোনাফ বলেন, ‘সরকার গ্রামের লোকজনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু গত এক মাসে আটবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েও ওই চিকিৎসকের দেখা মেলেনি।’
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছেরাজ আহমদ বলেন, চিকিৎসক কর্মস্থলে নিয়মিত যাচ্ছেন কি না, তা মাঠ পর্যায়ে তদারকি নেই। এ কারণে চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে না গিয়ে ফাঁকি দিচ্ছেন। এতে গ্রামপর্যায়ে চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম চরমভাবে ভেঙে পড়লেও তা দেখার কেউ নেই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মো. মোখলেছুর রহমান খান বলেন, ‘ইতিমধ্যে কর্মস্থলে নিয়মিত না
যাওয়ার অভিযোগে মহেশখালীর তিন চিকিৎসককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর পরও চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না যাওয়ার বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেননি। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন