ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ক্লিনিকে শরীরে রক্ত নেওয়ার সময় ইনজেকশন দেওয়ায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার জেলা শহরের সেভেন ডে নার্সিং হোম নামের এক ক্লিনিকে ওই ঘটনা ঘটে।
রোগীর নাম সাহেরা বেগম (৩০)। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ফুলতলা গ্রামের কামাল হোসেনের স্ত্রী।
কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, কয়েক বছর ধরে তাঁর স্ত্রী সাহেরা রক্তশূন্যতাজনিত রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিন-চার মাস পর পর তাঁর শরীরে রক্ত দিতে হয়। গত সপ্তাহে সাহেরাকে বালিয়াডাঙ্গীর একটি ক্লিনিকে রক্ত দেওয়া হয়। গত শনিবার দুপুরে শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার জন্য তাঁকে সেভেন ডে নার্সিং হোমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষায় রক্তস্বল্পতার লক্ষণ মিললে চিকিৎসক তাঁকে আরও এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন। সাহেরার শরীরে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়ার জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কামালের সঙ্গে চুক্তি করেন। রক্ত দেওয়ার একপর্যায়ে ক্লিনিকের দায়িত্বরত সেবিকা সাহেরাকে দুটি ইনজেকশন দেন। এর কয়েক মিনিট পর তাঁরখিঁচুনি শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যায় তাঁকে ঠাকুরগাঁও সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। হাসপাতালে পৌঁছার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঠাকুরগাঁও সদর আধুনিক হাসপাতালের সহকারী সার্জন মেহেদী হাসান জানান, রোগী হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছেন।
কামাল জানান, সাহেরার শরীরে যে রক্ত দেওয়া হয়েছে, তা পরীক্ষার জন্য ক্লিনিকের লোকজন তাঁর কাছে ৪৮০ টাকা নিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল হক জানান, ঘটনার পর সাহেরার স্বামীকে নিয়ে ক্লিনিকে গেলে সেখানে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক ও সেবিকাদের পাওয়া যায়নি। কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেও চিকিৎসকের নাম বের করা যায়নি।
এ ব্যাপারে ক্লিনিক ব্যবস্থাপক এরশাদ হোসাইনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে ফোন ধরেন। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় জানাতেই ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ আছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন