পঞ্চগড় চিনিকল ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ লোকসানের কারণে চিনিকলটি বন্ধের আশঙ্কা করছেন আখচাষি, শ্রমিক ও কর্মচারীরা।
পঞ্চগড় চিনিকল ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ লোকসানের কারণে চিনিকলটি বন্ধের আশঙ্কা করছেন আখচাষি, শ্রমিক ও কর্মচারীরা। ছবি: প্রথম আলো

রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫ চিনিকল বন্ধের ‘পাঁয়তারা’র প্রতিবাদে ও বকেয়া বেতন পরিশোধসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ শনিবার ১৪ জেলায় বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন চিনিকলশ্রমিক ও আখচাষিরা। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

এসব দাবিতে বাংলাদেশ চিনিশিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন ও বাংলাদেশ আখচাষী ফেডারেশন সম্প্রতি যৌথভাবে আন্দোলন শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, কিছু সরকারি আমলা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো বন্ধের পাঁয়তারা করছেন। তাঁদের পরামর্শে সরকার চিনিকল বন্ধ করলে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষি পথে বসবেন। এর দায় তখন সরকারকে নিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, এই শিল্পের সঙ্গে শুধু শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবন-জীবিকা জড়িত তা-ই নয়, কৃষকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবন এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আধুনিকায়নের মাধ্যমে বহুমুখী দ্রব্য উৎপাদনের উপযোগী করে চিনিকলগুলোকে লাভজনক হিসেবে গড়ে তুলতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে চিনিকল বন্ধের প্রক্রিয়া বাতিল করা, চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনসহ আখচাষিদের আখের মূল্য পরিশোধ, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি প্রদান, আসন্ন আখমাড়াই মৌসুমের আগে যাবতীয় মালামাল সরবরাহ করা, আখ উৎপাদনের স্বার্থে সার, বীজ, কীটনাশকসহ জরুরি উপকরণ সরবরাহ করা।

নাটোর চিনিকল এবং নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের প্রধান ফটকে সকালে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান নাটোর-১ আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম।

রাজশাহীর পবার হরিয়ান ইউনিয়নে স্থানীয় চিনিকলের ফটকের সামনে সকালে মানববন্ধনে বক্তব্যে রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, চিনিকলগুলো বন্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্রে নেমেছে।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, কিছু সরকারি আমলা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো বন্ধের পাঁয়তারা করছেন। তাঁদের পরামর্শে সরকার চিনিকল বন্ধ করলে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষি পথে বসবেন। এর দায় তখন সরকারকে নিতে হবে।

এ ছাড়া ফরিদপুরের মধুখালীতে আখচাষী কল্যাণ সংস্থা ভবনের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে, গাইবান্ধায় গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কে রংপুর চিনিকলের প্রধান ফটকে, রংপুরের বদরগঞ্জে শ্যামপুর মিলস গেট এলাকায়, দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ চিনিকলগেটে, কুষ্টিয়া চিনিকলের পাশে বাইপাস সড়কে, জয়পুরহাট চিনিকলের সামনে, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলবাজার বটতলায়, পাবনার ঈশ্বরদীর ডাকবাংলো মোড়ে, ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের সামনে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা সুগার মিলের সামনে, পঞ্চগড় চিনিকলসংলগ্ন মিলগেট বাজারে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে ও ঠাকুরগাঁও রোডে ঠাকুরগাঁও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষিরা সমাবেশ-মানববন্ধন করেন।

{প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন ঢাকার বাইরে থেকে প্রথম আলোনিজস্ব প্রতিবেদকপ্রতিনিধিরা}

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন