default-image

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে ম্রো জনগোষ্ঠীর মানুষদের সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে দুই আন্তর্জাতিক সংগঠন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে সেই খোলা চিঠি পাঠিয়েছে দুটি সংগঠন। তারা সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ চিঠির কথা জানায়। এ দুই সংগঠন হলো এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্ট (এআইপিপি) ও ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কগ্রুপ ফর ইন্ডিজেনাস অ্যাফেয়ার্স (আইডব্লিউজিআইএ)। এ দুই সংগঠনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে ম্রোদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ না করে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

চিম্বুক পাহাড়ে একটি শিল্প গ্রুপের পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে গত বছরের নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ জানিয়ে আসছে ম্রো জাতিগোষ্ঠীর স্থানীয় লোকজন। ম্রোরা বলেছেন, তাঁদের প্রথাগত ও ঐতিহ্যগত জমিতে কাপ্রুপাড়া, দোলাপাড়া, ইরাপাড়া ও কলাইপাড়ার শতাধিক¤ম্রো পরিবার জুমচাষ করে আসছে। পরিবারগুলো বলছে, এই হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হলে চারটি পাড়া সরাসরি উচ্ছেদ হবে। আর ৭০ থেকে ৮০টি পাড়ার ম্রোরা উচ্ছেদের হুমকির মুখে পড়বে। এ নিয়ে ম্রোদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এআইপিপি ও আইডব্লিউজিআইএর চিঠিতে বলা হয়েছে, বান্দরবানে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ প্রক্রিয়া গ্রহণ করার ফলে সেখানকার আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠী জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে। সংগঠন দুটি চিম্বুক-থানচি রাস্তায় বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণ বন্ধসহ সরকারের প্রতি ৬ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো সংবিধান মেনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা, ম্রোদের হয়রানি বন্ধ ও তাদের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন। এর পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়সীমা বা রোডম্যাপ ঘোষণারও দাবি জানানো হয়।

খোলা চিঠিটির বক্তব্য ও দাবিগুলোর প্রতি বিশ্বের ৮২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং ১০৬ জন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সমর্থন রয়েছে বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন