চিরনিদ্রায় আতিকুল হক চৌধুরী

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আলোকিত নাট্যকার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শত শত ভক্ত, অনুসারী ও সহকর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। গত সোমবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে আতিকুল হক চৌধুরীর সর্বশেষ কর্মস্থল একুশে টেলিভিশনের সামনে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেলা পৌনে ১১টায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজন করে নাগরিক শ্রদ্ধানুষ্ঠানের।
শহীদ মিনারে আতিকুল হকের মরদেহে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, বিএনপির পক্ষে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম প্রমুখ। প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমী, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ছায়ানট, চ্যানেল আই, টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশন, কারক নাট্যসম্প্রদায়, প্রাচ্যনাট, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাসদ, বাসদ, নৃত্যশিল্পী সংস্থা ইত্যাদি।
শহীদ মিনার থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে বাদ জোহর তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কবি আসাদ চৌধুরী, ফরিদুর রেজা সাগরসহ সর্বস্তরের জনতা। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া তাঁর ৪০ বছরের কর্মস্থল বিটিভিতে। বিটিভি চত্বরে মরহুমের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
আতিকুল হক চৌধুরীর জন্ম ভোলায়, মামাবাড়িতে ১৯৩১ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ১৯৬০ সালে রেডিও পাকিস্তানে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে যোগ দেন টেলিভিশনে। ১৯৯০ সালে বিটিভির উপমহাপরিচালক হিসেবে অবসর নেন। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে ১১ বছর খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে দূরবীন দিয়ে দেখুন, নীলনকশার সন্ধানে, জলাশয় কত দূর, সুখের উপমা, বাবার কলম কোথায়, বৃষ্টিবালিকা ইত্যাদি। বাংলা একাডেমী পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।