চীনে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি

বিজ্ঞাপন
default-image

ঢাকা-চীনের গুয়াংজুতে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো বন্ধের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মহিবুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনটা ফ্লাইট চলাচল করছে। এ ফ্লাইটগুলো বন্ধের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে চীন থেকে যেসব বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চান, তাঁদের আনতে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট আজ শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঢাকা ছেড়ে যাবে। বিমানটি আজ দিবাগত রাত দুইটার দিকে বাংলাদেশি যাত্রীদের নিয়ে দেশে ফিরবে। বিমান সূত্র বলছে, তিন শতাধিক যাত্রী দেশে ফিরতে পারেন।

বিমানবন্দরে সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ২০ জানুয়ারি থেকে যে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা মোট ৪ হাজার ২৬০ জনকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত থার্মোস্ক্যানারে পরীক্ষা করা হয়েছে। একজনের শরীরে জ্বর ছিল দেখে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি করোনোভাইরাসে আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ মধ্যরাতে যাঁরা উহান থেকে বিমানবন্দরে আসবেন তাঁদের সরাসরি আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্থাপন করা কোয়ারেনটাইনে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) রাখা হবে। তাঁদের রক্তের নমুনা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহর। চীনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি আছেন। এর মধ্যে করোনাভাইরাস উপদ্রুত উহান শহরে বাংলাদেশি আছেন ৪৫০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩১৪ জন দূতাবাসের কাছে দেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৃহস্পতিবার এক জরুরি বৈঠকের পর সংস্থাটির তরফ থেকে এই ঘোষণা আসে বলে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পেছনে কারণ হিসেবে, ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এবং এটি এখন শুধু চীনের উদ্বেগের বিষয় নয় বরং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে এখন পর্যন্ত ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা শুধু চীনেই ৮ হাজারের বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে চীনের বাইরে ১৮টি দেশে ৯৮ জনের শরীরের এমন ভাইরাস পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন