default-image

চুয়াডাঙ্গায় শিলাবৃষ্টিতে ইটভাটাগুলোতে কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভরা মৌসুমে কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ৮৫টি ইটভাটায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির দাবি, এতে তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এলাকার কয়েকজন জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া চারটা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টা থেমে থেমে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়। এতে ইটভাটাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর এ সময় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে এ ধরনের বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির এটাই রেকর্ড।
জীবননগর, দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে সব কটি ভাটার কাঁচা ইট ভিজে গলে গেছে। ভাটায় কিছু কাঁচা ইট পলিথিন দিয়ে ঢেকে রক্ষার চেষ্টা করা হলেও শিলার কারণে সেগুলোরও ক্ষতি হয়েছে। ইটভাটার কয়েকজন মালিক জানান, ইট পোড়ানোর এখন ভরা মৌসুম। প্রতিটি ভাটার ওপর ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক পরিবার নির্ভরশীল। শিলাবৃষ্টিতে শুধু মালিকেরা নন, শ্রমিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ পদ্ধতি ও স্থায়ী চিমনিসহ মোট ৮৫টি ইটভাটা রয়েছে। প্রতিটি ভাটায় শুকাতে দেওয়া ৮ থেকে ১০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হওয়া এসব কাঁচা ইটের মাটি সরিয়ে নিয়ে আবারও নতুন করে ইট তৈরি করতে হবে। এতে বাড়তি শ্রমিক খরচসহ অন্যান্য খরচ মিলে প্রতিটি ভাটার ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হবে।
দামুড়হুদার কোষাঘাটায় অবস্থিত বিল্ড ইটভাটার মালিক হাবিবুর রহমান জানান, শিলাবৃষ্টিতে তাঁর ভাটার ১০ লাখ টাকার কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। কাঁচা ইটের অভাবে ভাটার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন করে উৎপাদনে যেতে আরও ১০ দিনের বেশি সময় লাগবে। এ সময়ে যে পরিমাণ ইট উৎপাদিত হতো, সেটাও লোকসানের খাতায় যোগ করতে হবে।
জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব জানান, হঠাৎ করে বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রতিটি ভাটামালিকের যে লোকসান হয়েছে, তা কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে অনেক মালিককে পথে বসতে হবে। এ শিলাবৃষ্টিতে তাঁদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন