বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, করোনাকালে ২০২০ ও ২০২১ সালে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। কিন্তু এই সময়ে প্রথম আলোর কর্মীরা বহুমুখী কাজ করেছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রথম আলো আরও এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রগতি অসামান্য। কর্মীদের পরিবারের সমর্থন ছাড়া এমন কাজ অসম্ভব ছিল। সব সময়ের মতো সুখে-দুঃখে কর্মী ও তাদের পরিবারের পাশেই থাকবে প্রথম আলো।
মতিউর রহমান বলেন, প্রথম আলো শুধু পত্রিকা না, দেশের বৃহত্তম মিডিয়া হাউস। প্রথম আলোর প্রতি পাঠকের বিশ্বাস, আস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রথম আলোকে আরও সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ২০২২ সাল নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে। আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন করে যাত্রা শুরু করবে প্রথম আলো। সামনে আরও ভালো করতে হবে, নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে আসতে হবে।
এ বছর প্রথম আলো পরিবার মিজানুর রহমান খান, অরুণ বসু ও আবুল কালাম আজাদ—এই তিনজনকে হারিয়েছে। এ ক্ষতি অপূরণীয়। প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই তিনজনের বাসায় যান প্রথম আলোর সহকর্মীরা। তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, প্রথম আলো তাদের পাশে আছে। এই তিন সহকর্মীর স্মরণে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র দেখানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর ফিচার সম্পাদক সুমনা শারমিন। তিনি বলেন, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান অন্যান্য বছরের চেয়ে কিছুটা ভিন্নভাবে শুরু করেছি। প্রতিটি ফ্লোরে ছোট করে অনুষ্ঠান হয়েছে। কর্মীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত ছিল প্রতিটি অনুষ্ঠান।

এর আগে সকালে প্রথম আলোর কর্মীরা কারওয়ান বাজারে কর্মস্থলে চলে আসেন। পুরুষ সহকর্মীরা পরেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্ট আর নারী সহকর্মীরা গায়ে জড়ান শাল। প্রথম আলোর সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ কর্মীরা পর্যায়ক্রমে কারওয়ান বাজারের প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবনে প্রথম আলো কার্যালয় ও পাশের প্রথম আলোর নিজস্ব ভবনের প্রতিটি তলায় যান। প্রতি তলায় গিয়ে কেক কেটে, সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প-হাসিতে মাতেন। কর্মীরাই পরিবেশন করেন গান, নাচ। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সব ফ্লোরের মধ্য থেকে সেরা তিনটিকে নির্বাচন করা হয়।

প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মীদের জন্য ছিল বিশেষ কুইজ ‘প্রথম আলোকে কতটা জানি’। গতকাল এই কুইজের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রথম হয়েছেন মো. আবদুল মোহাইমেন, দ্বিতীয় বিপাশা বালা শান্তা ও তৃতীয় হয়েছেন লিপি রানী সাহা। প্রতি মাসে প্রথম আলোর কর্মীদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কুইজ। এই কুইজের সেপ্টেম্বর মাসের বিজয়ীদের নামও অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয়।

সেরা কর্মী হলেন যারা:
অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর বিভিন্ন বিভাগের বর্ষসেরা কর্মীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালের সেরা প্রতিবেদক হয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম। সমন্বিত রিপোর্টিং বিভাগের সেরা হয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোশতাক আহমেদ। সমন্বিত বার্তা বিভাগের সেরা কর্মী হয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. রাশেদুল আলম ও সহকারী বার্তা সম্পাদক মো. মাহ্‌ফুজার রহমান সরকার। সমন্বিত বিশাল বাংলা বিভাগের সেরা হয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক তপতী বর্মন।

সমন্বিত বাণিজ্য বিভাগের সেরা জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. সানাউল্লাহ সাকিব। সমন্বিত ক্রীড়া বিভাগের সেরা জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. সোলায়মান। সমন্বিত সম্পাদকীয় বিভাগের সেরা হয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। সমন্বিত ফিচার বিভাগের সেরা কর্মী জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান। স্পেশাল অ্যাফেয়ার্সের সেরা সহকারী সম্পাদক ফিরোজ আখতার জামান চৌধুরী। ইংরেজি ওয়েবের সেরা কর্মী গালিব আশরাফ। আলোকচিত্রী বিভাগের সেরা নিজস্ব ফটোসাংবাদিক শুভ্র কান্তি দাশ।
আর্টস ও গ্রাফিকস বিভাগের সেরা ইনচার্জ, নিউজ গ্রাফিকস মো. আওরোঙ্গজেব। ডিজিটাল বিজনেসের সেরা উপব্যবস্থাপক আ. ফ. ম. খায়রুল বাশার। বিজ্ঞাপন সেলস বিভাগের সেরা উপব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান ও সহকারী ব্যবস্থাপক নর্মদা দাশ। সার্কুলেশন সেলস বিভাগের সেরা সহকারী ব্যবস্থাপক মো. রাসেল রানা।

হিসাব বিভাগের সেরা ব্যবস্থাপক রূপক রঞ্জন সাহা। যুব কার্যক্রম অ্যান্ড ইভেন্টসের সেরা সহকারী ব্যবস্থাপক মো. বায়জিদ ভূঁইয়া। প্রশাসন বিভাগের একরামুল হক। চট্টগ্রাম অফিসের সেরা কর্মী জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. মাসুদ পারভেজ। চলতি ঘটনা: বাংলাদেশ ও বিশ্বের সহকারী সম্পাদক মো. মোছাব্বের হোসেন। কিশোর আলোর সমন্বয়ক, ম্যাগাজিন মো. শাহাদাত ফয়েজ।

বিশেষ স্বীকৃতি পান ইংরেজি বিভাগের হেড অব কনটেন্ট আয়েশা কবির ও কনটেন্ট অফিসার (চরকি) আদর রহমান। সেরা প্রতিনিধি হয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল এম জসিম উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী এফ এ এম মাহবুবুর রহমান ও প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী মো. রাশেদুল হক। সেরা দল হয়েছে বিলিং অ্যান্ড কালেকশন।

প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ায় আয়োজন করা হয় সুধী সম্মিলনের। সেখানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুম আলী বেগ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, কবি ও প্রাবন্ধিক বজলুল করিম বাহার, লেখক ও প্রাবন্ধিক শোয়েব শাহরিয়ার, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহিদা জোহরা রহমান, চিকিৎসক আরশাদ সায়ীদ, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম, ব্যবসায়ী সৈয়দ আহম্মদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন