নোয়াখালীতে পৃথক মামলায় ছয় ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার জেলা দায়রা জজ এবং নোয়াখালীর বিশেষ দায়রা জজ আদালত পৃথক রায়ে এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের দুই সহোদর জামাল উদ্দিন ও আবুল হাশেম এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার বেলায়েত হোসেন ওরফে সাহাবউদ্দিন, শাহজাহান মিরাজ ওরফে হিরন, জাহাঙ্গীর আলম ও নূরল ইসলাম ওরফে নূর নবী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জের চৌমুহনীবাজারের ব্যবসায়ী ফজলুল হককে ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্টেশন রোড থেকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় ফজলুল হকের বাবা সামছুল হক বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন ও আবুল হাশেমকে আসামি করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।
গতকাল নোয়াখালীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিরিন ও কবিতা আক্তার নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন। জামাল উদ্দিন পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে জেলার সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের তেমুহানীবাজার এলাকা থেকে চার ছিনতাইকারী অটোরিকশাচালক মো. ইয়াকুবকে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করে। এ সময় চালক ইয়াকুবের চিৎকারে এলাকাবাসী ঘেরাও করে দুই ছিনতাইকারী বেলায়েত হোসেন ও শাহজাহানকে আটক করে। পরে আহত ইয়াকুবকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইয়াকুব কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মেরকোট গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। এ ঘটনার চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
গতকাল জেলা দায়রা জজ মো. আবদুল কুদ্দুস মিয়া অভিযুক্ত চার আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালতের রায় ঘোষণার সময় বেলায়েত হোসেন ও শাহজাহান মিরাজ উপস্থিত ছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম ও নূরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি সোনাইমুড়ী উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন