রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার ও সংগঠন। গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ফারুকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালেদ হাসানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি পি এম শফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা গোলাম সাব্বির সাত্তার, ফারুকের বড় বোন আসমা বেগম প্রমুখ। আসমা বেগম বলেন, ‘যাদের পরিবার থেকে কেউ হারিয়ে যায়, তারা বোঝে কষ্ট কাকে বলে। ফারুকের মৃত্যুশোকে মা-বাবা পাগলপ্রায়। আমার কোনো কিছু চাওয়ার নেই। আমি শুধু ভাই হত্যার বিচার চাই।’
সভার আগে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের টেন্ট থেকে একটি শোকর্যা লি বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও ভবন প্রদক্ষিণ করে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। ফারুকের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটিকে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়ভাবে ‘শহীদ ফারুক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল দখল নিয়ে শিবিরের ক্যাডাররা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সংঘর্ষে শিবিরের নেতা-কর্মীরা ফারুককে খুন করে লাশ শাহ মখদুম হলের পেছনের ম্যানহোলে ফেলে রাখে। একই রাতে ছাত্রলীগের আরও তিন কর্মীর হাত-পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয়। এঁরা হলেন বাংলা বিভাগের সাইফুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ফিরোজ মো. আরিফুজ্জামান ও রুহুল আমীন। আসাদুর রহমান নামে ছাত্রলীগের আরেক কর্মীকে শিবিরের ক্যাডাররা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনার পর থেকে তিনি অন্ধ।
ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবিরের ৩৫ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেক শিবির নেতা-কর্মীর নামে নগরের মতিহার থানায় একটি মামলা করেন। ২০১২ সালের ৩০ জুলাই রাজপাড়া থানার তৎকালীন ওসি জিল্লুর রহমান চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাজশাহী আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ইব্রাহিম হোসেন জানান, মামলাটির বিচারকাজ চলছে। তবে হরতাল-অবরোধের কারণে মামলাটির শুনানি অনেক দিন ধরে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বিচার শেষ হতে দেরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন