সিলেটের মদন মোহন কলেজে নিজেদের কর্মীদের হাতে ছাত্রলীগের কর্মী আবদুল আলী তালুকদার (১৯) খুনের ঘটনায় আঙ্গুর মিয়া (২০) নামের আরও এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে হত্যাকাণ্ডে সংগঠনটির তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আঙ্গুরকে। তিনি নিহত আলীর সহপাঠী। আলী ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এর আগে গত বুধবার হত্যাকাণ্ডের দিন পালানোর সময় গ্রেপ্তার হন পুরজিৎ দাস ওরফে প্রণজিৎ (জয়) ও রাহুল কান্তি দে।
আঙ্গুরকে গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করে সিলেট কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে আঙ্গুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর গতকাল পুরজিৎকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে গতকাল কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন আবদুল আলীর বাবা আলকাস আলী। মামলায় পুরজিৎ, আঙ্গুরসহ ছাত্রলীগের আরও তিন কর্মীকে আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে চারজনকে। কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ জানান, পুরজিৎ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলীকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আঙ্গুর মিয়াকে গ্রেপ্তার এবং পলাতকদের শনাক্ত করে আসামি করা হয়েছে। রাজীব, মাকসুদ, তানভির নামে এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে আলীর বুকের ডান দিকে, পেটের বাঁ দিকে ও বাঁ হাতের বগলের নিচে ছুরিকাঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আলীর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0