বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
নিশ্বাস যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ ছেলে হত্যার বিচারের জন্য লড়ে যাব। বিচার দেখার আগে যেন আমার মরণ না হয়।
জাহেদা আমিন চৌধুরী, দিয়াজের মা

দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রকাশ্যে আসামিরা ঘুরলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। শুধু বলছে তদন্ত করছে। কিন্তু কী তদন্ত করছে, তা বলতে পারছে না। আসামিদের সম্পর্কে তথ্য দিলেও তা ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ নেতারা আসামি, তাই তদন্ত এগোচ্ছে না।’

বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুস সালাম মিয়া। তিনি গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত অব্যাহত আছে। দৃশ্যমান কী অগ্রগতি আছে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তে সবকিছু দৃশ্যমান হয় না। কাজ চলছে। আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। তিনি বলেন, ‘দেখলে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।’

লাশ উদ্ধারের তিন দিন পর ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। অন্য আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু, সহসভাপতি আবদুল মালেক, মনসুর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তোরাব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল আলম, আপ্যায়ন সম্পাদক মিজানুর রহমান, সদস্য আরিফুল হক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামশেদুল আলম চৌধুরী। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ক্যাসিনো-কাণ্ডে গ্রেপ্তার ঠিকাদার জি কে শামীমকে দিয়াজের পরিবারের পক্ষ থেকে আসামি করা হলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, আসামিদের মধ্যে শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর টিপু ও তাঁর ভাই মো. আরমান জামিনে আছেন। বাকি আসামিরা পলাতক।

দিয়াজ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হোক চান আসামিরাও। এই মামলার আসামি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপু প্রথম আলোকে বলেন, প্রমাণ পেলে আসামি করা হোক। আসামি থাকায় চাকরিসহ নানা সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিরা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হওয়ায় তদন্তে প্রভাব পড়ছে না। তদন্ত তার গতিতে চলবে।

দিয়াজের ময়নাতদন্ত নিয়েও জটিলতা দেখা দেয়। ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া প্রথম ময়নাতদন্তে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করেছিলেন চিকিৎসকেরা। পরিবার ও ছাত্রলীগের একাংশ (দিয়াজের অনুসারী) এটি প্রত্যাখ্যান করলে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজকে শ্বাস রোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকে খুনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা উচিত। প্রকৃত রহস্য উন্মোচন না হলে এ ধরনের ঘটনা বাড়বে।

ছেলে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে হাল ছাড়ছেন না মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নিশ্বাস যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ ছেলে হত্যার বিচারের জন্য লড়ে যাব। বিচার দেখার আগে যেন আমার মরণ না হয়।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন