যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট-বুড়ুলি সড়ক নির্মাণকাজের সময়সীমা শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু ছয় মাসের এ কাজ আজও শেষ করতে পারেননি িঠকাদার। এলাকাবাসী তাঁদের ভোগান্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বনান্তর ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কাজটি করছি না। মণিরামপুর উপজেলার আবু সাঈদ (সাব-কন্ট্রাক্টে) কাজটি করছেন।’ আবু সাঈদ বলেন, ‘রাস্তার পাশে পানি ওঠার কারণে কাজ করতে পারছিলাম না বলে বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে কার্পেটিং করে দেব।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) বৃহত্তর যশোর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কেশবপুরের এ গ্রামীণ সড়কটির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এলজিইডির কেশবপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মঙ্গলকোট থেকে বুড়ুলি পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বনান্তর ট্রেডিং করপোরেশনকে এ কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ২৪ মে।

১৪ মার্চ সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটিতে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিনেও পিচ ঢালাই না করায় কোথাও কোথাও খোয়া উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এর ওপর দিয়ে পথচারী, রিকশা-ভ্যান, ভটভটিসহ বিভিন্ন যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। ভ্যানচালক আলী আহম্মেদ বললেন, এ রাস্তায় চলাচল করতে হয় খুবই সাবধানে। কারণ, পাশ দিয়ে নছিমন (ভটভটি) যাওয়ার সময় খোয়া ছুটে আসে। এর আঘাতে পথচারী ও ভ্যানযাত্রীদের আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পাঁচারই, পাথরা, ঘাঘা, বুড়ুলি, মঙ্গলকোটসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা এ সড়ক হয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। সড়কটির পাশে রয়েছে দুটি বিদ্যালয় এবং একটি পার্ক। তা ছাড়া এই এলাকায় প্রচুর সবজি চাষও হয়। সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এই সড়ক দিয়ে বাজারে নিতে হয়।

পাথরা গ্রামের মঈন উদ্দীন বলেন, এক বছর ধরে এ সড়কে কোনো বড় গাড়ি চলাচল করে না। এমনকি রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স আসতেও সমস্যা হচ্ছে।

পাঁচারই গ্রামের সাজ্জাত মোল্লা বলেন, গত বছরের চৈত্র মাসে সড়কটি খোঁড়া হয়। এরপর খোয়া ফেলে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার মাধ্যমে লোকজনের ভোগান্তি কমাতে তাঁরা ঠিকদারের বাড়ি পর্যন্ত গেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

 পাঁচারই টিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোন্তাজ আলী অভিযোগ করে বলেন, সড়কটি নির্মাণে এই দীর্ঘসূত্রতার জন্য শুধু ঠিকাদার নন, প্রকৌশলীরাও দায়ী।

তবে কেশবপুর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আমাদের কার্যালয় থেকে ঠিকাদারকে তাগাদা দিয়ে ছয়বার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে লোকজনের ভোগান্তি হচ্ছে।’

যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, ঠিকাদার আবু সাঈদ চলতি মার্চ মাসের মধ্যে কাজটি সম্পাদন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে ব্যর্থ হলে তাঁকে জরিমানা করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন