default-image

সারা দেশে চলমান সহিংসতাকে ‘জঙ্গিবাদ’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাঙালি অন্যায়ের কাছে কখনো পরাজয় মানেনি। এবারও তারা পরাভূত হবে না। জঙ্গিদের কাছে আমরা কখনো নতি স্বীকার করব না।’ তিনি গতকাল শনিবার সকালে হোটেল র্যা ডিসনে আন্তর্জাতিক রোটারি শান্তি সম্মেলন-২০১৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা টানা অবরোধ ও মাঝেমধ্যে হরতাল কর্মসূচির মধ্যে সারা দেশে পেট্রলবোমা হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হরতাল ও অবরোধের নামে এ হিংস্র হায়েনাদের সারা দেশে মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা রুখবই। সন্ত্রাসের হোতাদের পরাজিত করেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করব ইনশা আল্লাহ।’
শেখ হাসিনা প্রশ্ন রাখেন, রাজনীতি কার জন্য? রাজনীতি তো সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু নিরীহ মানুষকে এভাবে হত্যা করে কী অর্জন করতে চায় বিএনপি-জামায়াত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এটা তাদের ভুল। তাদের এ ভুলের খেসারত জনগণকে দিতে হবে কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘাতকদের পেট্রলবোমা হামলায় প্রায় ৫৫ জন পুড়ে মারা গেছেন। কয়েক শ মানুষ হাসপাতালের শয্যায় অমানুষিক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন। পোড়া মানুষের গন্ধে বার্ন ইউনিটের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা বলেন, এসব অমানবিক কাজ কারা করছে, তা দেশবাসী জানে। রাজনীতির নামে সাধারণ মানুষকে এভাবে পুড়ে মারার মতো নৃশংসতা এ দেশের মানুষ আগে আর কখনো দেখেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিএনপি-জামায়াত জোট সারা দেশে একইভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সে সময় হত্যা করা হয়েছে পুলিশ-বিজিবি-আনসার-সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২০ সদস্যকে।
দেশের মানুষ উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ পছন্দ করে না—এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে যাচ্ছি। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যাতে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালনা করতে না পারে, সে ব্যাপারেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রধানমন্ত্রী কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর সরকারের ব্যাপক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, গত ৬ বছরে দারিদ্র্যের হার ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
রোটারি ক্লাব ঢাকা মহানগর আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত কে আর রবিনদ্রন। রোটারি ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩২৮১-এর জেলা গভর্নর সাফিনা রহমান ও একই সংগঠনের ৩২৮২-এর জেলা গভর্নর প্রকৌশলী এম এ লতিফ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন