উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন সমস্যা জঙ্গিবাদ দমনেও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (এনজিও) ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে সরকারও এনজিওগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারে। কারণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকার-এনজিওর ‘স্বস্তিকর সহাবস্থান’ জরুরি। 

আজ রোববার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘এনজিও এবং উন্নয়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ব্র্যাক ডে’ উপলক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘সরকার এবং এনজিওগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারলে ভালো। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলোর একসঙ্গে কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে এসডিজি বাস্তবায়নের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন।’
রেহমান সোবহান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ‘ক্ষুদ্রঋণ’ কর্মসূচি ‘বিস্ময়কর’ ভূমিকা পালন করছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বড় এনজিও হিসেবে ব্র্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে ক্ষুদ্রঋণের বাইরে ব্র্যাকের সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগগুলোকে আরও ফলপ্রসূ করতে ভারতের কোনে কোনে প্রদেশের আঙ্গিকে উৎপাদনকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি আমূলের উদাহরণ তুলে ধরেন। ব্র্যাকের যে ৮০ লাখ গ্রাহক আছে, তাকেও একটি বড় শক্তি মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে এক গবেষকের উদ্ধৃতি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘এনজিওগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক অস্বস্তিকর সহাবস্থানের মতো। আমি মনে করি, এটাকে “স্বস্তিকর সহাবস্থানে” নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ, শুধু দারিদ্র্য বিমোচনে নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জন্মনিয়ন্ত্রণ, মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে এনজিওগুলো বড় ভূমিকা পালন করছে। আর যে দেশে এনজিওগুলো শিক্ষা, নারীর অধিকারসহ নানা ক্ষেত্রে এত অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আজকে এনজিওগুলো কাজ করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার এনজিওগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চায়। এসডিজি অর্জনে এনজিওগুলো চাইলে তাদের পরামর্শ দিতে পারে সরকারকে।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মাদ মুসা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ব্র্যাক ৪৫তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে। পরিবর্তিত সময়েও ব্র্যাক এগিয়ে যেতে চায়।
বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, প্রান্তিক মানুষদের ঋণের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সুদের হার কমিয়ে আনা উচিত। পাশাপাশি এনজিওগুলো যেন শিক্ষা খাতে খরচ না বাড়ায়, সেটিও দেখা উচিত।
যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস আর ওসমানি বলেন, এনজিওগুলোকে নতুন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল বায়েস বলেন, সরকার ও দাতা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ব্র্যাকের মাধ্যমে যাঁরা অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়েছেন, তাঁদের ৯০ শতাংশেরই স্থায়ী উন্নয়ন ঘটেছে। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে ব্র্যাক দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখছে, পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়নেও সহায়তা করে যাচ্ছে। সংস্থাটি এ পর্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৩০ লাখ মানুষের জন্য নিরাপদ পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে, দেশব্যাপী পাঁচ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং তিন কোটি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা সরবরাহ করেছে। ক্রমহ্রাসমান বিদেশি সহায়তা এনজিওগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন