default-image

আজ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবার্ষিকী। ১৯১৪ সালের এই দিনে তিনি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিভাবান এই শিল্পীকে ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক শিল্প আন্দোলনের পথিকৃৎ বলে ধরে নেওয়া হয়। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের (বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউ) তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ।
১৯৩৩ সালে কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর সেখানে ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় স্টাইলের ওপর পড়াশোনা করেন। ১৯৩৮ সালে তিনি আর্ট স্কুল অনুষদে যোগ দেন। ১৯৩৮ সালে সর্বভারতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীতে তাঁর অঙ্কিত জলরঙের ছবির জন্য তিনি স্বর্ণপদক পান। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে জয়নুল আবেদিনের করা স্কেচগুলো ছিল অনবদ্য। এ দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। সস্তা প্যাকিং পেপারে চায়নিজ ইঙ্ক ও তুলির আঁচড়ে ‘দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র’ নামে ছিল জয়নুলের এ ছবিগুলো জয়নুলকে সারা ভারতে পরিচিত করে তোলে।
১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের বিভক্তির পর জয়নুল আবেদিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। জয়নুল আবেদিন ও ঢাকা প্রত্যাগত তাঁর কয়েকজন সহযোগী মিলে আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫১ সালে তিনি লন্ডনের স্লেড স্কুল অব আর্টে দুই বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। লন্ডন থেকে প্রত্যাবর্তনের পর জয়নুলের চিত্রে নতুন যে ধারাটি দেখতে পাওয়া যায়, তাকে বলা যায় ‘বাঙালি ধারা’। ‘দুই মহিলা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩), ‘পাইন্যার মা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩) ও ‘মহিলা’ (জলরং, ১৯৫৩) হলো এ আমলের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়কে ভিত্তি করে আঁকা ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারানো হাজারো মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আঁকা ‘মনপুরা’ তাঁর বৈচিত্র্যময় কাজের উদাহরণ।
১৯৭৫ সালে জয়নুল আবেদিন সোনারগাঁয়ে একটি লোকশিল্প জাদুঘর এবং ময়মনসিংহে একটি গ্যালারি (শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা) প্রতিষ্ঠা করেন। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে তাঁর অঙ্কিত কিছু চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে। ফুসফুসে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর শততম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে বর্ষব্যাপী নানা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কিত তথ্য জানানো হয়।
এ উপলক্ষে আজ সকালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন শিল্পাচার্যের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। বেলা তিনটায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শিল্পাচার্যের জন্মশতবর্ষের মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন শিল্পাচার্যের সহধর্মিণী বেগম জাহানারা আবেদীন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতিসচিব রণজিৎ বিশ্বাস, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন শিল্পাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, স্মারক বক্তা থাকবেন বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে শেখ হাসিনা শিল্পাচার্যের শিল্পকর্ম নিয়ে জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনীকক্ষে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘরের পাশাপাশি ময়মনসিংহ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা স্বতন্ত্রভাবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে আজ। এ ছাড়া তাঁর সব ছবি নিয়ে পাঁচ খণ্ডে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং সংস্কৃতিসচিব রণজিৎ বিশ্বাস।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন