default-image

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে দুই বছর আগে। বর্তমানে টিনের ছাউনি দেওয়া যে ভবনে শ্রেণির কার্যক্রম চলছে, সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জানান, উপজেলার সফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১৩ সালের শুরুতে সেটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে তিন কক্ষের জীর্ণ আধা পাকা ভবনে চলছে শ্রেণির কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে প্রাক–প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণিতে ১৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষকের পদ চারটি হলেও প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় এখন কর্মরত আছেন তিনজন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত ভবনের পাশেই টিনের ছাউনিযুক্ত আধা পাকা ভবনে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। টিনের ছাউনির অনেক স্থানে ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি এলে পানি চুইয়ে পড়ে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া পুরোনো পরিত্যক্ত ভবনেই হচ্ছে সমাপনী পরীক্ষার জন্য পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিমূলক বিশেষ ক্লাস। পঞ্চম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, পুরোনো দালানে ক্লাস করতে ভয় লাগে তাদের। তবু শ্রেণিকক্ষ কম থাকায় বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রহিম জানান, পুরোনো পরিত্যক্ত ভবনটি পাকিস্তান আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল। আর আধা পাকা ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৮৭ সালে। বর্তমানে আধা পাকা ভবনের তিনটি কক্ষে চলছে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ বি এম মামুদুল হক বলেন, ১৯৮৭ সালে নির্মিত আধা পাকা ভবনটিতে তিনটি শ্রেণির পাঠদান করা সম্ভব। কিন্তু সেটিও জরাজীর্ণ এবং টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়টির একটি ভবন পরিত্যক্ত। ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন