default-image
>

*রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকারের সিদ্ধান্ত
*সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাল জাতিসংঘ
*এক লাখ রোহিঙ্গাকে ধাপে ধাপে নেওয়ার পরিকল্পনা
*অবকাঠামো ও বাজার নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ

কক্সবাজারের শিবির থেকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আপত্তি জানিয়ে এলেও সরকারের এ উদ্যোগকে এখন স্বাগত জানাচ্ছে জাতিসংঘ। তবে জাতিসংঘ বলছে, ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজটি যাতে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না হয়। এ অবস্থায় জাতিসংঘের সহযোগিতা নিয়েই রোহিঙ্গাদের একাংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ সরকার।

এক লাখ রোহিঙ্গাকে ধাপে ধাপে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বাজার নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন শিবিরে এখন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে।
স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে যুক্ত করা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে আগামী ১৫ এপ্রিল ভাসানচরে হয়তো পাঠানো সম্ভব হবে না বলে মনে করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি নাম উদ্ধৃত করে কথা বলতে চাননি। শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধিতা করে এলেও এখন হঠাৎ করে কেন জাতিসংঘ সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হলো, এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে ঢাকায় জাতিসংঘের তথ্যকেন্দ্র গতকাল সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিকল্প স্থানে রোহিঙ্গাদের নেওয়ায় কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে বাড়তি লোকজনের চাপ কমবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় জাতিসংঘ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ( ইউএনএইচসিআর) সুরক্ষাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার ভলকার টার্ক বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে আপত্তি নেই জাতিসংঘের।
রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারে কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতিসংঘ। ভাসানচরে স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের মতামতের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি। সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তরে মানবিক সাড়া দেওয়া–সংক্রান্ত কারিগরি সমীক্ষা খুবই সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। তাঁরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার আগে তাদের সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে হবে, যাতে করে প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী তথ্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ভাসানচরে নিরাপদ ও টেকসইভাবে জীবনযাপনসহ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ।

রোহিঙ্গাদের তহবিলের অপচয় হচ্ছে না
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) আঞ্চলিক প্রতিনিধি খালেদ খলিফা দাবি করেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য গঠিত তহবিলের অর্থের অপচয় হচ্ছে না। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের জন্য যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) নামে গঠিত আর্থিক উদ্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে বাংলাদেশ সফরে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, তুরস্ক এবং ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জেআরপির তহবিল মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ সফর করছেন।

এ বছর জেআরপিতে রোহিঙ্গাদের জন্য ৯২০ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তহবিলের মাত্র ১৪ শতাংশ সংগ্রহ করা গেছে। অবশিষ্ট অর্থের জন্য এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত দেশ ও সংস্থাকে আহ্বান জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের জন্য কতটা আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, সেটা মূল্যায়ন করে প্রতিনিধিদলটি বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইবে।

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য আনা অর্থের ৭৫ শতাংশ সাহায্য সংস্থাগুলো নিজেরা খরচ করে এমন অভিযোগ এসেছে। শুধু হোটেল বিলের জন্য ছয় মাসে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় শ কোটি টাকা। তা ছাড়া দৈনিক ভাতা, রাত্রিযাপন ও যাতায়াতের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য গঠিত মানবিক সহায়তার যথার্থ ব্যবহার সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে খালেদ খলিফা বলেন, ‘তহবিলের অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে জবাবদিহি থাকা অপরিহার্য। জবাবদিহি ছাড়া কোনো কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা যায় না। তহবিলের কোনো অপচয় হচ্ছে না। আমরা কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের চাহিদা গুরুত্ব দিয়েই তহবিলের ব্যবহার করছি।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন