default-image

রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মরাসহ উচ্চপর্যায়ের পাঁচ ব্যক্তিত্ব কাল সোমবার কক্সবাজার যাচ্ছেন। গত বছরের আগস্টে মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরুর পর একসঙ্গে এতগুলো সংস্থার প্রধানের এটাই প্রথম কক্সবাজার সফর।

আন্তোনিও গুতেরেসসহ উচ্চপর্যায়ের পাঁচ বৈশ্বিক নাগরিকের বাংলাদেশ সফরের প্রাক্কালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের দুই সংস্থার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত শুক্রবার জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার পর তাদের অবাধে চলাচল ও নাগরিকত্বের বিষয়টি চুক্তিতে নিশ্চিত করা হয়নি।

সফরকারীদের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও আন্তর্জাতিক রেসক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মরা, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ও মিয়ানমারের মানবাধিকার-বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ের ইয়াংহি লি বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে আন্তোনিও গুতেরেসের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

default-image

এবারকার রোহিঙ্গা ঢলের ১০ মাস পর জাতিসংঘের মহাসচিবের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর, জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার-বিষয়ক দূতের মিয়ানমার সফরের পর আন্তোনিও গুতেরেসের সফরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার আদ্যোপান্ত গুতেরেসের ভালোভাবেই জানা। এ ছাড়া ইউএনএইচসিআরের প্রধান হিসেবে তিনি এর আগে দুবার কক্সবাজার ঘুরে গেছেন। তবে এই দফায় সংকটটা জটিল হওয়ায় এবার বাংলাদেশে এসে সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নিতে তাঁকে সহায়তা করবে।

খসড়া সূচি অনুযায়ী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম আজ সকালে একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জাতিসংঘের মহাসচিব। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আন্তোনিও গুতেরেস সরাসরি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে যাবেন। দিনের দ্বিতীয় ভাগে জাতিসংঘের স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় জাতিসংঘের মহাসচিবের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন আন্তোনিও গুতেরেস।

গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়ন নিয়ে যথেষ্ট উচ্চকণ্ঠ আন্তোনিও গুতেরেস। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নকে তিনি ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হামলার জন্য তিনি একদিকে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের চরম সমালোচনা করেছেন; অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দূর করতে বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন।

চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় ফেরানোর স্বার্থে মে মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের চুক্তি সই হয়।

ইউএনএইচসিআর ওই সমঝোতা স্মারককে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ‘পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার একটি অবকাঠামো তৈরির প্রথম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছিল।

ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, প্রত্যাবর্তনকারীরা মিয়ানমারের অন্য সব নাগরিকের মতোই রাখাইন রাজ্যে আইন ও বিধিবিধান অনুসারে চলাচলের স্বাধীনতা ভোগ করবে। তবে রাখাইনের বাইরে রোহিঙ্গাদের একই স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়নি এতে। এ ছাড়া মিয়ানমারের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান রোহিঙ্গাদের স্বাধীন চলাচলের অন্তরায়। এই বিষয়টিও চুক্তিতে চিহ্নিত করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিয়ানমার-বিষয়ক গবেষক লরা হাই বলেন, বিষয়টা এমন যে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার অর্থ দাঁড়াবে জাতিবিদ্বেষকবলিত একটি রাজ্যে প্রত্যাবর্তন, যেখানে তারা চলাচলের স্বাধীনতা পাবে না এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কাজের ক্ষেত্রে সেভাবে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। এসব পরিস্থিতির পরিবর্তনের কোনো নিশ্চয়তাই ওই চুক্তিতে নেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0