ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তর থেকে প্রচারিত এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গিন লুইস, ব্রিটিশ হাইকমিশনের উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক ম্যাট কনেল এবং ইউরোপীয় মানবিক সহায়তা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ইজাবেল ডি হওটের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্যাদুর্গত অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন আছে। ওই এলাকাগুলোতে এখনো সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে ১৫ লাখ লোকের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার (প্রায় ৫৪৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা) তহবিলের জন্য আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ।

default-image

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টায় সহায়তা হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক সহায়তা দেওয়া এনজিওগুলোর জন্য ১২ লাখ ইউরো (১১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে দুই লাখ ইউরো (১ কোটি ৯০ লাখ টাকার বেশি) বরাদ্দ করেছে। ব্রিটিশ সরকার ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৮ পাউন্ড (সাত কোটি টাকার বেশি) দিয়েছে। সুইডেন ১৩ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১২ কোটি টাকার বেশি) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে জরুরি অর্থায়নে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার (২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি) বরাদ্দ করেছে।

জাতিসংঘ মিশন মনে করে, সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বড় পরিসরে সমন্বিত সাড়াদান কার্যক্রম চলছে। সরকার ৪ লাখ ৭২ হাজার লোককে প্রায় ১ হাজার ৬০৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যসহায়তা পেয়েছে। জাতিসংঘ এবং বেসরকারি সাহায্য সংস্থার অংশীদারেরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাদ্যসহায়তা, পানীয় জল, নগদ অর্থ, জরুরি ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি, মর্যাদা ও স্বাস্থ্যবিধি সরঞ্জাম এবং শিক্ষাসহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে।

default-image

জাতিসংঘের যৌথ মিশন জানিয়েছে, প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুর্গম অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন। স্থানীয় সম্প্রদায়ের অনেক প্রবীণ এই বন্যাকে তাঁদের জীবদ্দশায় দেখেছেন, এমন যেকোনো বন্যার চেয়ে খারাপ বলে বর্ণনা করেছেন। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছেন, তাঁদের অনেকেই অভিযোগ করেছে যে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে নৌকার মালিকেরা অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে তাঁদের সঞ্চয়ের ওপর।

জাতিসংঘ জানায়, তাদের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ শিশুদের সুরক্ষা, নিরাপদ পানি, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার জন্য মাঠে রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ইউনিসেফ তার অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে ২৮ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা দিয়েছে ইউনিসেফ। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) তিন জেলার ৩৪ হাজার পরিবারকে ৮৫ টন ‘ফর্টিফায়েড বিস্কুট’বিতরণ করেছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে যেতে ও সার্বক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের আড়াই লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করেছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন