জাতিসংঘ পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ ও জাতির অর্জন: ভূমিমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন
default-image

‘ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ পুরস্কারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ও জাতির সম্মিলিত অর্জন বলে উল্লেখ করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। গতকাল বুধবার জুম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ অর্জন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল ভূমি মন্ত্রণালয় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বলে মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ই-মিউটেশন (নামজারি) উদ্যোগ বাস্তবায়নের স্বীকৃতি হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ’ ক্যাটাগরিতে ‘ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদকে অভিনন্দন জানান ভূমিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সরকারের বিনির্মিত সামগ্রিক ডিজিটাল কাঠামোর কারণে ভূমিসেবা ডিজিটালকরণ অনেক সহজ হয়েছে।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে গৃহীত ডিজিটাল বাংলাদেশের মহাপরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সাল থেকে ই-নামজারি পাইলটিং শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে তিনটি পার্বত্য জেলা বাদে সারা দেশে একযোগে শতভাগ ই-নামজারি বাস্তবায়ন শুরু হয়। জাতিসংঘ পুরস্কার প্রাপ্তির পর আমাদের ওপর দায়িত্ব আরও বেড়েছে। এ স্বীকৃতি ধরে রাখতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভূমি অফিসে ই-নামজারি চালু হওয়ায় সেবা পেতে কম সময় ও কম খরচ হচ্ছে। এর ফলে নাগরিক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দালালদের দৌরাত্ম্য ও মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির সুযোগ কমছে। ভূমিমন্ত্রী ই-নামজারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, ‘“ডিজিটাল বাংলাদেশ” মূলত একটি “পরিবর্তনের গল্প”। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য সেক্টরের মতো ভূমি সেক্টরেও আমরা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য, অর্থাৎ হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

এর আগে ই-নামজারির প্রকল্পের ওপর একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল মান্নান।

জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার অর্জন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালক ছিলেন ভূমিসচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী। তিনি ভূমি সংস্কার বোর্ড, আইসিটি বিভাগ, এটুআই, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাঠপর্যায়ে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। ভূমিসচিব উল্লেখ করেন, করোনাভাইরাসের কারণে নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘ সরকারি দপ্তরে সেবা কার্যক্রমের জন্য এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রণালয়কে পুরস্কার দেয়।

এ সংবাদ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী পাটোয়ারী এবং ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান বেগম উম্মুল হাছনা, এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চৌধুরী, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. তসলীমুল ইসলামসহ সব বিভাগীয় কমিশনার। সবশেষে ভূমিমন্ত্রী অনলাইনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন