টানা অবরোধ-হরতালের কারণে পাইকার না আসায় জামালপুরে হস্তশিল্প পণ্যের বিক্রি কমে গেছে। ফলে এসব পণ্যের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রায় ২৫ হাজার নারী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
হস্তশিল্প ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জামালপুরে হস্তশিল্পের দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। হরতাল-অবরোধের আগে এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ টাকার হস্তশিল্প পণ্য বিক্রি হতো। এখন তা চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এ অবস্থায় প্রতিদিন একেকজন শিল্পমালিককে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি শহরে হস্তশিল্পের কয়েকটি কারখানা ও দোকান ঘুরে দেখা যায়, ঢাকাইয়াপট্টি এলাকার দীপ্ত কুটিরে বিক্রি হয়েছে তিন হাজার টাকা, কাচারিপাড়ার কারুনিলয়ে দুই হাজার, তমালতলার রংধনুতে দুই হাজার টাকা। বকুলতলা এলাকার দোকান প্রত্যয় কোনো পণ্যই বিক্রি করতে পারেনি। একই অবস্থা এখানকার হস্তশিল্পের প্রায় সব দোকানে।
এ সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অবরোধ-হরতালের আগে দেড় শতাধিক দোকানে মিলিতভাবে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন চার থেকে পাঁচ লাখ টাকাও বিক্রি হচ্ছে না।
শহরের ঢাকাইয়াপট্টি এলাকার দীপ্ত কুটিরের মালিক দেলুয়ারা বেগম বলেন, অবরোধ-হরতালের আগে প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকার পণ্যও বিক্রি হয়েছে। এখন পাঁচ হাজার টাকাও বিক্রি হয় না। তিনি জানান, জামালপুরের হস্তশিল্প পণ্যের পাইকারেরা এখান থেকে কিনে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। পেট্রলবোমার আতঙ্কে বর্তমানে পাইকারেরা আসছেন না। ফলে গত মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের প্রায় চার হাজার নারী শ্রমিককে কাজ দিতে না পারায় তাঁরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, ৫০ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। বিক্রি না হওয়ায় ধারদেনা করে মাসে দুই লাখ টাকা করে কিস্তি দিতে হচ্ছে।
শহরের হাটচন্দ্রা এলাকার শেফালি বেগম বলেন, ‘হস্তশিল্পের কারখানা থেকে প্রতি মাসে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শাড়ি, কাঁথা, সালোয়ার-কামিজ ও চাদরে হাতে নকশা করার কাজ নিয়ে থাকি। এভাবে কাজ করে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় হয়। কিন্তু এক মাস হয়েছে, একটিও নতুন কাজ পাইনি। এখন আমার সঙ্গে গ্রামের অন্য শ্রমিকেরাও বেকার।’
শহরের দরিপাড়া এলাকার ডলি আক্তার বলেন, ‘হরতাল-অবরোধে আমাগো তো কোনো লাভ নাই। তাহলে এগুলা দিয়ে লাভ কী? বাড়িতে থেকে হস্তশিল্পের কাজ করে মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকা আয় করে সংসারে কিছু জোগান দিই। কিন্তু কাজ কম থাকায় গত মাসে মাত্র দেড় হাজার টাকা পেয়েছি।’
কাচারিপাড়া এলাকার কারুনিলয়ের মালিক আঞ্জুমান আরা খাতুন বলেন, ‘এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হস্তশিল্পের ব্যবসায়ীদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এভাবে আর কত দিন চলবে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। সারা দিনে যেখানে ভাত খাওয়ার সময় পেতাম না। এখন সারা দিন বেকারের মতো বসে থাকতে হচ্ছে। স্থানীয় দু-একজন খুচরা ক্রেতা শোরুমে আসেন। বিক্রি না হলেও বেতনভুক্ত কর্মচারীদের বেতন ঠিকই দিতে হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন