উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৯ দল জোটবদ্ধভাবে বগুড়ার শেরপুরে চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। জোটের এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির এক নেতা নির্বাচন করছেন। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
খোন্দকার মাহবুবার রহমান নামের ওই বিএনপির নেতা দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থন তাঁর পক্ষে আছে। তিনি তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। বগুড়ায় ১৯ দলীয় জোট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তিনি তার সঙ্গে একমত নন।
গত সোমবার বগুড়ায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শেরপুরসহ জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে নয়টির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জোট-সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এতে শেরপুরে জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াত-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দবিবুর রহমানকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে ১৯ ফেব্রুয়ারি শেরপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির স্থানীয় একাধিক কর্মী অভিযোগ করেন, সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে জোটের প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। স্থানীয়ভাবে বিএনপিকে দুর্বল করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েছে।
খানপুর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আমজাদ হোসেন দাবি করেন, সাধারণ ভোটারদের কাছে ১৯ দলের প্রার্থীর চেয়ে বিএনপির মাহবুবার রহমানের অবস্থান অনেক ভালো। শেরপুর পৌর শহরের বিএনপির কর্মী জাহিদুর রহমান জানান, তিনিসহ দলের বেশির ভাগ কর্মী মাহবুবার রহমানের পক্ষে মাঠে নামবেন এবং ভোট দেবেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাচনে জোটের প্রার্থী নির্ধারণ করা নিয়ে তাঁর কাছে কোনো মতামত চাওয়া হয়নি। প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
জামায়াতের শেরপুর উপজেলা কমিটির সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দবিবুর রহমান জানান, ১৯ দল জোটবদ্ধভাবে তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত জোটের সব দলের নেতা-কর্মী তাঁর প্রচারণায় অংশ নেবেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন