সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মেঘাই এলাকায় যমুনা নদীর স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মেরামতকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে আগামী বন্যায় আবার ধস দেখা দেবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড রুপালি টেডার্স তীর সংরক্ষণ বাঁধের ধসে যাওয়া স্থানে মেরামতকাজ করছে। কাজে জিও ব্যাগের পরিবর্তে পাটের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া বস্তায় বালুর পরিবর্তে মাটি ভরে সেগুলো পানিতে ফেলা হচ্ছে।
কাজীপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন, এই এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেঘাই বাজারসহ উপজেলা সদরের অর্ধেক অংশই বাঁধের ওপর। এর আগেও নিম্নমানের উপরণ দিয়ে বাঁধের কাজ হওয়ায় এখানে ধস নেমেছে। এবারও জিও ব্যাগের পরিবর্তে পাটের বস্তায় বালুর পরিবর্তে মাটি ভরে ফেলা হচ্ছে। খুব শিগগির এসব বস্তা পচে বাঁধের নিচ থেকে মাটি দেবে যাবে। ফলে মেরামত করা এলাকায় আবারও ভাঙন দেখা দেবে।
মেঘাই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেভাবে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে, তাতে আগামী বর্ষায় এই এলাকা আবার নদীতে বিলীন হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) অবহিত করা হয়েছে। তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্র জানায়, কাজীপুরের যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় নদীভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে ২০১১-১২ অর্থবছরে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১০ প্যাকেজের আওতায় এই দরপত্র ডাকা হয়। এর মধ্যে পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড রুপালি ট্রেডার্স ৬ নম্বর প্যাকেজের আওতায় মেঘাই এলাকার বাঁধ নির্মাণে সাড়ে ১২ কোটি টাকার কার্যাদেশ পায়। গত বছর কাজ চলাকালেই জুলাই মাসে বন্যায় বাঁধের বেশির ভাগ অংশ ধসে যায়। দরপত্রের শর্তানুযায়ী কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই বাঁধ ধসে যাওয়ায় ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই এখন ধসে যাওয়া স্থান মেরামতের কাজ করছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি।
কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, জিও ব্যাগের দাম অনেক বেশি। তাই খরচ কমাতে পাটের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীর তলদেশে ফেলায় পাটের বস্তায় কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, বাঁধের ধসে যাওয়া স্থানে বেশি গভীরতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই উপরিভাগ থেকে নদীর তলদেশ পর্যন্ত বাঁধের ঢালু সোজা করতে গভীর স্থানের বালু ধরে রাখতে পাটের বস্তা ফেলা হচ্ছে। এরপর জিও ব্যাগ বিছিয়ে সিসি ব্লক বসানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয় লোকজনের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মেরামত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। কাউকে না পেয়ে জিও ব্যাগের পরিবর্তে পাটের বস্তা ব্যবহারের বিষয়টি স্থানীয় পাউবোকে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন