default-image

রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাইপে পড়ে নিহত শিশু জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার এ রুল দেন।

স্বরাষ্ট্রসচিব, রেলসচিব, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক, রেলওয়ের মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেনটেইনেন্স), ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন পাইপে ও অরক্ষিত গর্তে কেউ পড়ে গেলে দ্রুত কার্যকরভাবে উদ্ধার করতে গত দুই বছরে ফায়ার সার্ভিস কী ধরনের জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রপাতি কিনেছে, প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা অর্জন করেছে, সেসব বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে শাহজাহানপুরে রেলওয়ে মাঠে পরিত্যক্ত পানির পাম্পের পাইপে পড়ে যায় চার বছরের শিশু জিহাদ। ফায়ার সার্ভিসের ২৩ ঘণ্টার অভিযানে তাকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে ২৭ ডিসেম্বর বেলা তিনটার দিকে একদল স্বেচ্ছাসেবী পাইপের ভেতর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়া হলে জিহাদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
শিশুটিকে উদ্ধারে অবহেলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২৮ ডিসেম্বর শিশু অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠন চিলড্রেনস চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষে আইনজীবী আবদুল হালিম রিট আবেদনটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল হালিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নুসরাত জাহান ও বিলকিস ফাতেমা।

এ ছাড়া রুলে শিশুটির মৃত্যুতে বিবাদীদের অবহেলা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সারা দেশে কতগুলো অরক্ষিত পাইপ, ঢাকনাবিহীন পাইপ, গর্ত, ম্যানহোল, পয়োনিষ্কাশন পাইপ আছে তার তালিকা তৈরি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান আইনজীবী আবদুল হালিম।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন