default-image

রাজধানীর শাজাহানপুরে পাইপে পড়ে নিহত শিশু জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ রোববার এক রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ রুল দেন। একই সঙ্গে শিশু জিহাদের মৃত্যুতে বিবাদীদের অবহেলা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল হালিম রিট আবেদন করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম।
পয়োনিষ্কাশন পাইপে কেউ পড়ে গেলে দ্রুত কার্যকরভাবে উদ্ধার করতে গত দুই বছরে ফায়ার সার্ভিস কী ধরনের জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি ক্রয় করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা অর্জন করেছে—সেসব বিষয়ে আদালতে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দিতেও রুলে বলা হয়েছে।
তিন ভাইবোনের মধ্যে জিহাদ ছিল সবার ছোট। বয়স চার বছর। বাবা নাসির ফকির মতিঝিলের একটি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বিকেল চারটার দিকে অন্য শিশুদের সঙ্গে বাসার পাশেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পানির পাম্পের কাছে খেলতে যায় সে। একপর্যায়ে পাম্পের দেড় ফুট ব্যাসের একটি পাইপে পড়ে যায় সে। চলে যায় গভীরে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ওই পাইপের গভীরতা ৫০০ ফুট। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ৪০০ ফুট। কেউ বলে ৬০০ ফুট।

পাইপের ভেতর শিশুটি পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। শুরু হয় উৎকণ্ঠা, প্রার্থনা। ছুটে যান ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কয়েক শ কর্মী। শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, তারপর রাত, ভোর, সকাল, দুপুর—কিন্তু ছেলেটি উদ্ধার হয় না। পাইপে সরবরাহ করা হয় অক্সিজেন। রশি ফেলে আবার টানা হয়। একটু ভারী ভারী মনে হলেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আশপাশের শত শত মানুষ পড়তে থাকে দোয়া-দরুদ। কিন্তু রশি কিছুটা ওপরে ওঠানোর পর আবার হালকা হয়ে যায়। হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে চলে দীর্ঘ অভিযান।
প্রশিক্ষিত দমকল বাহিনী যখন ব্যর্থ, পাঁচ ফুট উচ্চতার একটা লোহার খাঁচা, কিছু উদ্যমী তরুণ-যুবক আর একটি ক্যামেরাই সৃষ্টি করল ইতিহাস। টানা ২৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর উদ্ধার হলো ছোট্ট শিশু জিহাদ। তবে জীবিত নয়, মৃত।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন