জিহাদের বাবা নাসির ফকিরকে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার। তাঁর দাবি, সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তরিকভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে যদি কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তাহলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জঙ্গিবিরোধীবিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার। এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গত শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলার সময় বাসার পাশে একটি গভীর পাইপের ভেতর পড়ে যায় জিহাদ। উদ্ধারকাজের একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস জানায় শিশুটি ভেতরে নেই। পরদিন বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন যুবকের চেষ্টায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জিহাদের বাবা নাসির ফকির মতিঝিলের একটি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আইজিপির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, যদি কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে নাসিরকে আটকে রাখা হয় বা নির্যাতন করা হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে। এ রকম কিছু হলে যিনি দায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানায় ১২ ঘণ্টা ধরে জিহাদের বাবাকে আটকে রাখার কারণ জানতে চাইলে আইজিপি দাবি করেন, যখন শিশু জিহাদকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তার বাবা নাসির ফকিরকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রহস্য উন্মোচনের জন্য নাসিরকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘উদ্ধারের সময় ফায়ার সার্ভিস ও অন্য সংগঠনগুলো যখন ক্যামেরা দিয়েও শিশু জিহাদের অস্তিত্ব পাচ্ছিল না, তখন তাদের বরাত দিয়েই বলেছি, শিশুটিকে পাওয়া যায়নি।’ তার পরও তিনি অভিযান অব্যাহত রাখতে বলেছেন বলে জানান।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পুরো বিষয়েই আন্তরিক ছিলাম। আন্তরিক ছিলাম বলেই সারা রাত বসে ছিলাম। ভেবেছি, বসে থাকলে উদ্ধারকাজটি দ্রুত হবে। আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্ধারকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করতে পারবে।’
শিশু জিহাদকে উদ্ধারে ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে রিট: রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাম্পের পাইপে পড়ে যাওয়া শিশু জিহাদকে উদ্ধারে ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট আবেদন করা হয়েছে। একটিতে ব্যর্থতা তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। অন্যটিতে জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।
শিশু অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠন চিলড্রেনস চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) পক্ষে গতকাল আইনজীবী আবদুল হালিম সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট করেন। আইনজীবী সৈয়দ মাইনুল হকের পক্ষে অপর রিটটি করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রথম আলোকে বলেন, রিটে জিহাদকে উদ্ধারে ব্যর্থতা অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবীসহ বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন এবং কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন