default-image

বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবসে প্রতিবার পত্রিকার পাতায় শহীদদের যে সারিবাঁধা ছবি ছাপা হয়, তার ভেতরে ড. গোবিন্দচন্দ্র দেবের, যিনি জি সি দেব নামেই বেশি পরিচিত—হাস্যোজ্জ্বল ছবিটি নজর কেড়ে নেয়। ছবিটি যে তাঁর এক জন্মদিনে স্টুডিওতে গিয়ে তোলা, জানতে পারি তাঁর পালক পুত্র ও গল্পকার জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের কাছে। আত্মভোলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের কিংবদন্তি অধ্যাপক জি সি দেব ছিলেন অকৃতদার। সন্তান হিসেবে দত্তক নিয়েছিলেন তাঁরই ছাত্র জ্যোতিপ্রকাশকে।

আর্থিক সংগতি ছিল না বলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে রাতবিরেতে জগন্নাথ হলে ফিরে মূল ফটক বন্ধ পেয়ে রেলিং বেয়ে উঠতে গিয়ে বার কয়েক দারোয়ানের কাছে ধরা পড়েন জ্যোতিপ্রকাশ। প্রভোস্ট জি সি দেবের কাছে নালিশ গেলে জ্যোতিপ্রকাশকে ডেকে পাঠান তিনি। বৃত্তান্ত শুনে শাস্তির বদলে জ্যোতিপ্রকাশকে তাঁর বাড়িতেই উঠে আসতে বলেন জি সি দেব। বাইরের কাজের বদলে জ্যোতিপ্রকাশকে তাঁর বইয়ের ডিকটেশনের কাজে সাহায্য করতে বলেন, তাঁর থাকা–খাওয়ার দায়িত্ব নেন। একপর্যায়ে জ্যোতিপ্রকাশকে পালক পুত্র হিসেবেই গ্রহণ করেন জি সি দেব।

জ্যোতিপ্রকাশ আরেক গল্পকার পূরবী বসুকে বিয়ে করলে এই তিনজনকে নিয়েই ছিল জি সি দেবের সংসার। ১৯৬০–এর দশকের শেষে জ্যোতিপ্রকাশ ও পূরবী পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় পাড়ি জমালে জি সি দেব দত্তক নেন জ্যোতিপ্রকাশেরই সাহিত্য–পরিমণ্ডলের আরেক মেয়ে রোকেয়া সুলতানাকে। ভিন্ন ধর্মের দুজনকে পুত্র–কন্যা হিসেবে গ্রহণ করে জি সি দেব তাঁর অসাম্প্রদায়িক দর্শনকে জীবনচর্যায় প্রতিফলিত করেছিলেন। একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে অপারেশন সার্চলাইট শুরু হলে পাকিস্তানি সেনারা যখন জি সি দেবের বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট ভবনের দরজায় প্রবল ধাক্কা দিচ্ছে, তখন ভেতরে জি সি দেবের সঙ্গে আছেন সেই রোকেয়া আর তাঁর স্বামী।

একটি গবেষণার সূত্র ধরে জি সি দেবের মৃত্যুর পূর্বাপর নানা তথ্যের খোঁজ পাই আমরা। জানতে পারি, যুদ্ধের বছর কয়েক আগে ১৯৬৭ সালে জি সি দেব ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় উইলকেস কলেজে। একাত্তরের মার্চের সেই সময়টাতে তিনি তাঁর সেই যুক্তরাষ্ট্র সফরের ওপর একটি বই লিখছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সেবার তিনি বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন বুদ্ধসহ প্রাচ্যের নানা দর্শন বিষয়ে। কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজও তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল মুসলিম দর্শন নিয়ে কথা বলতে। তাঁর তত্ত্ববিদ্যা-সার বা আমার জীবন দর্শন কিংবা অ্যাসপিরেশন অব কমন ম্যান বইয়ে তিনি সব ধর্ম ও দর্শনের সমন্বয়ে যে এক অভিন্নদর্শনের সন্ধানের কথা বলেছেন, বক্তৃতাগুলোতে সেই কথাই তুলে ধরেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার এই যে তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পল এ নাজারেক নামে এক তরুণ আমেরিকান পেনসিলভানিয়ায় গড়ে তুলেছিলেন ‘জি সি দেব ফাউন্ডেশন’। নাজারেক ছিলেন বিকল্পধারার চিকিৎসা কায়রোপ্র্যাক্টর চিকিৎসক। একাত্তরে সেই পল নাজারেকের সঙ্গেই আমেরিকান এক্সপেরিয়েন্স নামের বইটি নিয়েই আলাপে ছিলেন জি সি দেব। বেশ কিছু অংশ তিনি লিখেছেন বলে জানান। একাত্তরের ফেব্রুয়ারি মাসেও জি সি দেব আরেকবার যুক্তরাষ্ট্র যান, ওঠেন জ্যোতিপ্রকাশ আর পূরবীর বাড়িতে। অংশ নেন জি সি দেব ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ডে। ঢাকায় ফিরে পল নাজারেককে তিনি সর্বশেষ চিঠি লেখেন ২২ মার্চ।

default-image

পাকিস্তানি সেনারা যখন জি সি দেবের প্রভোস্ট ভবনের দরজায় আঘাত করছে, ঘড়ির কাঁটা তখন ২৫ পেরিয়ে ২৬ মার্চ ১৯৭১। রাতে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর ঢুকেই পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে জি সি দেব আর রোকেয়ার স্বামীকে। পেছনের বাগানের একটি ঘরে লুকিয়ে থেকে বেঁচে যান রোকেয়া। জগন্নাথ হলের আরও অগণিত ছাত্রের লাশের সঙ্গে অভিন্ন মানবধর্ম খুঁজতে থাকা ড. জি সি দেবের লাশটিও তারা মাটিচাপা দেয় হলের মাঠে।

১৯৭১ সালের মে মাসে যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অপ্রত্যাশিত চিঠি পায় সুদূর পেনসিলভানিয়া থেকে। লিখেছেন সেই ডা. পল নাজারেক। নাজারেক জি সি দেবের খোঁজ জানতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে। নিশ্চিত হতে চান, তিনি বেঁচে আছেন কি না, সাহায্য চান তাঁর আমেরিকান এক্সপেরিয়েন্স বইটির পাণ্ডুলিপি উদ্ধারে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলিলপত্রে দেখতে পাই, নাজারেকের এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কী উত্তর দেওয়া হবে জানতে চেয়ে রেজিস্ট্রার নথি উপস্থাপন করেছেন উপাচার্য সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন বরাবর। দলিলে উপাচার্যের উত্তর দেখে আমরা মর্মাহত হলেও বিস্মিত হইনি। আমরা দেখতে পাই, তৎকালীন পাকিস্তানপন্থী উপাচার্য ১৩ মে ১৯৭১ তারিখে নথিতে লিখেছেন ‘নো অ্যাকশন ফর দ্য প্রেজেন্ট’, অর্থাৎ এ বিষয়ে এখন কিছু করার দরকার নেই। জি সি দেব প্রসঙ্গটিকে স্পষ্টতই নির্মমভাবে চাপা দিতে চেয়েছেন তিনি।

১৯৬৫ সালে ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান গোয়েন্দা বিভাগ থেকে জি সি দেবকে ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য যোগাযোগকারী সন্দেহে ‘প্রটেক্টিভ কাস্টডি’ হিসেবে ধরে জেলে নিয়ে গিয়েছিল। জ্যোতিপ্রকাশ তাঁর সঙ্গে জেলগেট পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তিনি মনে করতে পারেন, দর্শনে ডুবে থাকা মানুষটি এই হেনস্তায় কী পরিমাণে বিপন্ন হয়েছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাশালী কারও সাহায্যে জি সি দেবকে জেল থেকে বের করে নিয়ে এলে স্বল্পস্থায়ী ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পুরো সময়টা তিনি প্রথমে বাড়িতে, পরে হাসপাতালে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। জি সি দেব প্রসঙ্গে পাকিস্তানপন্থী উপাচার্যের উচ্চবাচ্য করা থেকে বিরত থাকার প্রেক্ষাপটটি আমরা বুঝতে পারি।

default-image

তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নাজারেক হাল ছাড়ার পাত্র নন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ওয়াশিংটনের তৎকালীন পাকিস্তান দূতাবাসে চিঠি লিখে তাঁর প্রসঙ্গে জানতে চান। আবারও খোঁজ করেন পাণ্ডুলিপির। সেই সূত্র ধরে ওয়াশিংটন দূতাবাস ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার যোগাযোগ করে জি সি দেব বিষয়ে তথ্য চায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে এবার বেশ একটা আলোড়ন লক্ষ করি। আমরা দেখি, এ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্তাকর্তারা এ বিষয়ে নথি চালাচালি করছেন। দর্শন বিভাগসহ অন্যান্য প্রশাসনিক বিভাগের সঙ্গে চিঠি দেওয়া–নেওয়া চলে। এটি ঘটছে একাত্তরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে।

আমরা দেখতে পাই, অবশেষে ৩০ নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঢাকার প্রটোকল অফিসারকে অত্যন্ত নির্দোষ ভাষায় জানাচ্ছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান জি সি দেব ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে মারা গেছেন।’ এ তথ্য থেকে নাজারেকের পক্ষে ঘটনাটির নেপথ্যের বীভৎসতার কথা নিঃসন্দেহে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু চিঠিটি আর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সুযোগ পায়নি। কারণ, এর পরপরই মুক্তিযুদ্ধের পটপরিবর্তিত হয়ে গেছে। পাকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ঢাকার। দুই সপ্তাহ পরেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

default-image

আমরা দেখতে পাই, কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্‌গ্রীব নাজারেক আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন স্বাধীন বাংলাদেশেও। ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসেই নাজারেক জি সি দেব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আবার চিঠি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের কাছে। ইতিমধ্যে তিনি জেনে গেছেন জি সি দেবের মৃত্যুর খবর। নতুন উপাচার্যের কাছে এবার তিনি জানতে চান, জি সি দেবের আমেরিকান এক্সপেরিয়েন্স–এর পাণ্ডুলিপিসহ অন্যান্য বইপত্র উদ্ধার করে জি সি দেব ফাউন্ডেশনে পাঠানো যায় কি না। তিনি যে এর জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে রাজি, সে কথাও জানান।

দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে নাজারেক অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে এবার লেখেন ওয়াশিংটনের নতুন বাংলাদেশ দূতাবাসে। জি সি দেবের ব্যাপারে স্বাধীন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়েরও এমন নীরবতায় তিনি তাঁর হাতাশার কথা জানান। নাজারেক আবারও আন্তরিকভাবে জানতে চান ঠিক কীভাবে কোথায় জি সি দেবের মৃত্যু হয়েছিল। জি সি দেবের লেখা পত্র, বই ইত্যাদি সংগ্রহের আবেদন করেন তিনি। জি সি দেব যে বাড়িতে থাকতেন, তার একটি ছবিও তিনি চান।

বিজ্ঞাপন

আমরা লক্ষ করি, বাংলাদেশ ওয়াশিংটন দূতাবাসে নাজারেকের চিঠি পৌঁছালে এবার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেন দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি কূটনীতিবিদ এস এম আলী। তাঁর উদ্যোগে এবং তাগাদাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবশেষে স্বাধীনতার প্রায় ১০ মাস পর জি সি দেবের মৃত্যুর পুরো বিবরণ জানিয়ে নাজারেককে চিঠি লেখে। চিঠিতে এ–ও জানানো হয় যে তাঁর প্রভোস্ট ভবনটি পাকিস্তানি বাহিনী তছনছ করেছে এবং পরে সেটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। এ কারণে বাড়ির কোনো ছবি তাঁরা দিতে পারছেন না এবং সেখানে তাঁর কোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়ারও সম্ভাবনা নেই।

default-image

জি সি দেবের একজন আন্তরিক বন্ধুর আবেদনে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ গড়িমসি গ্রহণযোগ্য নয় নিশ্চয়ই, তবু আমরা এটি বিবেচনায় রাখছি যে একটি নতুন দেশের নানা প্রশাসনিক রদবদলের ভেতর এ ধরনের ব্যক্তিগত অনুরোধ রাখার পরিস্থিতি হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের তখন ছিল না। কিন্তু জি সি দেব বিষয়ে একজন বিদেশির এ কৌতূহল এবং পরবর্তীকালেও দেশের ভেতর জি সি দেব বিষয়ে কর্মকাণ্ডে আমাদের কিছু প্রশ্ন জাগে।

জি সি দেব বাংলাদেশের একজন দার্শনিক হিসেবে একসময় আন্তর্জাতিক আগ্রহের জন্ম দিয়েছিলেন। তাঁর নামে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ফাউন্ডেশনও গঠিত হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে বসে তাঁর সেই পরম্পরাকে কি আমরা ধরে রাখতে পেরেছি? আমরা মনে করি, আজকের বিক্ষুব্ধ পৃথিবীতে জি সি দেবের দর্শনকে প্রসঙ্গিক করে তোলার প্রভূত সম্ভাবনা আছে।

আমরা মনে করি না যে জি সি দেবের প্রতি প্রাপ্য মনোযোগ এবং তাঁকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে। স্বাধীনতা পদক দেওয়ার মাধ্যমে জি সি দেবকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হয়েছে অনেক বিলম্বে, ২০০৮ সালে।

default-image

আমরা এ–ও জানি, মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর বৈষয়িক সম্পত্তির অর্ধেক দান করে গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে, বাকি অর্ধেক তাঁর পালক পুত্র জ্যোতিপ্রকাশ এবং পালক কন্যা রোকেয়াকে। রোকেয়া ইতিমধ্যে গত হয়েছেন। আমরা জেনেছি, দীর্ঘ চার দশক পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর দত্তক পুত্র জ্যোতিপ্রকাশকে জি সি দেবের প্রাপ্য বেতন–ভাতা দিয়েছেন। এটি নিশ্চয়ই ধন্যবাদযোগ্য উদ্যোগ। দুই পালক সন্তানের মতোই সমান ভালোবাসার পাত্র তাঁর ‍দীর্ঘদিনের কর্মস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জি সি দেব সমভাবে দান করে গেছেন তাঁর সম্পত্তি, যেটা ঢাকায় ধানমন্ডির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। আমাদের প্রস্তাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জি সি দেবের সেই বাড়িতে তাঁর উত্তসূরির অনুমোদন সাপেক্ষে, জি সি দেবের স্মারক একটি কেন্দ্র গড়ে তুলুক। সেই কেন্দ্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটুক তাঁর দর্শনের সঙ্গে, তারা জানুক তাঁর নির্মম মৃত্যুর ইতিবৃত্ত। বহুধাবিভক্ত আজকের এই বাংলাদেশে এবং বিশ্বে জি সি দেবের মতো ঐক্যের সন্ধানী, অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী মানুষগুলোকে প্রাসঙ্গিক করে তোলা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।

শাহাদুজ্জামান: কথাসাহিত্যিক ও জনস্বাস্থ্যবিদ।
খায়রুল ইসলাম: ওয়াটারএইডের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন