জীবাণু নিয়ে অনেক কথাই তো বলি এবং শুনি। আরেকবার না হয় একটু শুনি। ১০০ ভাগ জীবাণুর মধ্য ৯৫ ভাগ জীবাণু ভালো, ৫ ভাগ জীবাণু খারাপ। আর এই ৫ ভাগের ৮০ ভাগ সংক্রমিত হয় আমাদের হাতের সংস্পর্শে। যেহেতু ৮০ ভাগ আমাদের হাতের সংস্পর্শে সংক্রমিত হয়, তাই জীবাণু যখন একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য এক ব্যক্তির পোষকদেহে প্রবেশ করে, তখনই বলা হয় তিনি সংক্রমিত হয়েছেন।

জীবাণু রোগ সৃষ্টকারী ক্ষমতাকে বলা হয় রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা। যখন তা পরিমাণগত অর্থে তুলনা করা হয়, একে অনেকে ভিরুলেন্স বলেন। এই রোগ সংক্রামক জীবাণু বিভিন্ন প্রবেশপথের মাধ্যমে (রুট অব এন্ট্রি) বিষাক্ত পদার্থ উৎপাদন, দেহকলার ভেতরে প্রবেশ, উপনিবেশ, পুষ্টিনাশ এবং পোষকদেহের (রোগীর) রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আর তখনই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। আর ভয় তো সেখানেই। কারণ, করোনাভাইরাস হচ্ছে ছোঁয়াচে রোগ। অনেকেই আমরা বুঝতে পারি না এই ছোঁয়াচে বিষয়টা কী!

ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় ভাইরাস গোত্রীয় সব জীবাণুর রোগ সংক্রমণ করার প্রবণতা অনেক বেশি হয়ে থাকে। করোনাভাইরাস এর মধ্য অন্যতম। প্রতিটি জীবাণুর সুপ্তাবস্থা একেক রকম। জীবাণু পোষকদেহে (রোগী) প্রবেশমাত্রই রোগের উপসর্গ প্রকাশ পায় না। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে উপসর্গ ৫-১৪ দিনে প্রকাশ পায়। তবে উপসর্গহীন রোগীও দেখা যায়। এর কারণ হচ্ছে, করোনাভাইরাসের মিউটেশন। জেনেটিক পরিব্যাপ্তির মাধ্যমে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন অবস্থানে এর রূপ, উপসর্গ পরিবর্তিত হচ্ছে।

জাতির এই ক্রান্তিকালে জরুরি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন, ব্যাংকার, সাংবাদিক, ওষুধশিল্পের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদন-বিপণনে কর্মকর্তারা। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে সামাজিক দূরত্ব আর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ওষুধ উৎপাদন হচ্ছে দেশের প্রায় সব ওষুধশিল্প প্রতিষ্ঠানে। দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন ফার্মাসিস্ট- মাইক্রোবায়োলোজিস্ট, কেমিস্টসহ অনেক নিবেদিতপ্রাণ।
দেশের এই ক্রান্তিকালে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের ভূমিকা অপরিসীম। করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে পিসিআর মেশিন চালনা এবং র‍্যাপিড কিট উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে তা হচ্ছে। দরকার আরও কাজ করার সুযোগ। সব সরকার-বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং গবেষণা কেন্দ্রে মাইক্রোবায়োলোজিস্ট নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।
পরিশেষে, ভয় নয়, দরকার সচেতনতা। রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ভয়, হতাশা, আতঙ্ক রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়। সবার সচেতনতায় একদিন অবশ্যই আমরা করোনার মতো সব জীবাণু প্রতিহত করব। সেদিন বেশি দূরে নয়।

*লেখক: মাইক্রোবায়োলোজিস্ট, ওষুধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন