default-image

রংপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের একমাত্র ভরসা রংপুর টাউন হল মিলনায়তন। কিন্তু এখানে নেই কোনো জেনারেটর। বিদ্যুৎ চলে গেলে তাই অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। নেই শব্দযন্ত্রের ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানের জন্য শব্দযন্ত্র ভাড়া করে আনতে হয়।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও তা পূরণ হয়নি।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসন দ্বারা পরিচালিত এ মিলনায়তনে একজন তত্ত্বাবধায়কসহ পাঁচজন কর্মচারী আছেন। নাট্য সংগঠনগুলোর জন্য ভাড়া দিনে ৭৫০ টাকা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য এক হাজার ও সভা-সেমিনারের জন্য ভাড়া দুই হাজার টাকা। প্রতি মাসে এখানে গড়ে ২০টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ডিসেম্বরে ২২টি অনুষ্ঠান হয়েছে।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠনের অভিযোগ, মিলনায়তনটিতে যেকোনো অনুষ্ঠান করতে গেলে সংগঠকদের নানামুখী বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আলাদাভাবে শব্দযন্ত্র (সাউন্ড সিস্টেম) ভাড়া করে আনতে হয়। বৃষ্টি হলে মিলনায়তনের ছাদের টিন চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ে। অনুষ্ঠানে প্রতিধ্বনি হয়। শ্রোতাদের শুনতে সমস্যা হয়। বছর কয়েক আগে মিলনায়তনটি সংস্কার করে নতুন চেয়ার বসানো হলেও দোতলার অনেক চেয়ার ইতিমধ্যে ভেঙে গেছে।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জেলা সংসদের সহসভাপতি শাশ্বত ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনুষ্ঠান চলা অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকে না। কী যে ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা, তা বোঝানো যাবে না! এ জন্য আমরা বছরের পর বছর ধরে একটি জেনারেটরের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এর কোনো বাস্তবায়ন দেখছি না।’
জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সাখাওয়াত রাংগা বলেন, রংপুরের ঐতিহ্যবাহী একমাত্র হলটি ঘিরে টিকে আছে এখানকার সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা। এ হলের প্রাচীন স্থাপত্য ঠিক রেখে সংস্কার করা জরুরি। নাট্য সংগঠন রংপুর পদাতিকের প্রধান সম্পাদক জি এম নজু বলেন, নাটক মঞ্চায়নের জন্য মঞ্চের সামনে লাইট বাঁধার জন্য কোনো ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ বলেন, বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর এবং অন্য সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
১৯১৩ সালে মিলনায়তনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী মিলনায়তনটি নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত। সে সময় হলটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর বিগত সরকারের আমলে ভবনটি সংস্কার করা হয় এবং সিঁড়িসহ কিছু অংশ বর্ধিত করা হয়। মিলনায়তনটিতে ৫০০ আসন রয়েছে। প্রায় সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক এ হলেই আয়োজন করতে হয় সংগঠনগুলোকে। এ ছাড়া রাজনৈতিক সভা, সেমিনারসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের অনুষ্ঠান টাউন হলেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই হলে একসময় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শিশির ভাদুড়ী, অর্ধেন্দু শেখরসহ আরও অনেক সাহিত্যিক ও কবির পদচারণ ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন