সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, নারীর অধিকার অর্জনে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। উন্নয়ন কার হচ্ছে এবং উন্নয়নে কোনো ফাঁকফোকর আছে কি না, তা দেখতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী বলেন, এবারের বাজেটের ইতিবাচক দিক হলো রাজস্ব খাতে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রবাসী আয়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে। তবে এর সঙ্গে অন্যান্য সূচক বাড়ছে কি না, তা দেখতে হবে। শিক্ষায় ঝরে পড়া কমাতে এবারের জেন্ডার বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই, পরিকল্পনা নেই। সামাজিক নিরাপত্তা, জননিরাপত্তার ক্ষেত্রসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমেছে। তিন দশকে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হলেও আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান এম এম আকাশ বলেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প আছে। নারীদের জন্য বরাদ্দ কতটা, তা বের করার কিছু উপায় আছে। উদাহরণস্বরূপ নারীর জন্য তৈরি করা অবকাঠামো যেমন, হাসপাতাল ও স্কুল থেকে তারা কতজন সেবা পাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা দরকার।

কেয়ার বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (নারী ও কিশোরী ক্ষমতায়ন কর্মসূচি) রওনক জাহান বলেন, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ নেই। নারীবান্ধব আইন বাস্তবায়নের জন্য যে সম্পদ বরাদ্দ দরকার, তা বাজেটে নেই।

সভাপতির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে জেন্ডার–বৈষম্য সূচক অনুসারে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে। এই অবস্থান কত দিন থাকবে, তা শঙ্কার বিষয়। জেন্ডার বাজেটে নারীকে মূলধারায় এগিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে কোভিড পরিস্থিতি স্তিমিত হলেও কোভিডের অভিঘাত নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ সব ক্ষেত্রের অর্জনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ করার দাবি জানান।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, উন্নয়নের জন্য বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দ কতটা করা হয়েছে, বরাদ্দ করা ব্যয় কিভাবে করা হচ্ছে এবং সেটা কিভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন