এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি জেলার বেশির ভাগ উপজেলায় দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে বড় দুদলের একাধিক প্রার্থী লড়াইয়ে নেমেছেন। জেলা নেতারা গতকাল পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক করেও একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেননি। জেলার আট উপজেলার ছয়টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দল থেকে প্রাথমিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একজন করে প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলা হলেও পাঁচ উপজেলায় আওয়ামী লীগের ও দুই উপজেলায় বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় দুদলেরই রয়েছে একক প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শানে আলম ও বিএনপির জেলা কমিটির সহসভাপতি কংচাইরী মগ।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ছয়টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪০ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ৩৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২৭ জানুয়ারি বাছাই পর্বে সব মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, আ. লীগ নেতাদের মধ্যে প্রার্থী হিসেবে মাটিরাঙ্গায় রয়েছেন দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি শামসুল হক (দল সমর্থিত, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান) এবং উপজেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তাজুল ইসলাম (তাইন্দং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান), মানিকছড়িতে উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ম্রাগ্য মারমা (দল সমর্থিত) ও বর্তমান কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, রামগড়ে সাবেক সাংসদ এ কে এম আলীম উল্লাহ (দল সমর্থিত), কাজী রফিকুল ইসলাম ও কাজী মোহাম্মদ সেলিম, মহালছড়িতে উপজেলা কমিটির সভাপতি নীলোৎপল খীসা (দল সমর্থিত) ও ছাত্রলীগ নেতা ক্যাজাই মারমা, পানছড়িতে দলে সদ্য যোগদানকারী বকুল চন্দ্র চাকমা (দল সমর্থিত, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি জিমি চাকমা।

বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন দুই উপজেলায়। তাঁরা হলেন মানিকছড়িতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক (দল সমির্থত) ও সহসভাপতি এস এম রবিউল ফারুক, রামগড়ে উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ভূইয়া (দল সমর্থিত), স্থানীয় বিএনপি নেতা রিয়াজ উদ্দিন এবং বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত ভূঁইয়া।

সূত্র জানায়, দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ব্যক্তিরা এখন নিজেদের দলের সমর্থিত একক প্রার্থী হিসেবে সমর্থন আদায়ের জন্য ধরনা দিচ্ছেন জেলা নেতাদের কাছে। তবে জেলা নেতারা এ ব্যাপারে গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আ. লীগের যুগ্ম সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দল থেকে আমরা দুজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। বাছাইয়েও টিকে গেছি। এখন উভয়েই চেষ্টা চালাচ্ছি জেলা নেতাদের সমর্থন পেতে। শেষ পর্যন্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’

মানিকছড়ি উপজেলা আ. লীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘মানিকছড়ি উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি তা করছেন না। বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আমার নাম আলোচনায় ছিল। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আমাকে চাচ্ছে। তাই আমি নির্বাচন করছি।’

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম বলেন, বড় দল হিসেবে একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে দলের সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে একজনকেই সমর্থন দেওয়া হবে। অন্য প্রার্থীদের ব্যাপারে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত (৩ ফেব্রুয়ারি) অপেক্ষা করতে হবে।

মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এম রবিউল ফারুক বলেন, ‘তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে নেমেছি। দলের দুঃসময়ে এলাকায় কাজ করেছি। আশা করি, জেলা নেতারা আমাকে মূল্যায়ন করবেন।’

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মণীন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান, উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে একজন করে প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ছাড়া, নির্বাচনে আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফের সমর্থন নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় চঞ্চুমনি চাকমা, পানছড়িতে সর্বোত্তম চাকমা এবং মহালছড়িতে সোনারতন চাকমা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। মহালছড়িতে জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন বিমল কান্তি চাকমা। এদিকে মাটিরাঙ্গায় জামায়াত সমর্থিত এয়াকুব আলী ও আলকাছ মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা বাঙালি ছাত্র পরিষদের সাবেক নেতা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0