বরিশাল নগরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জেল খালে বাঁধ দিয়ে শুরু হয়েছে উন্নয়নকাজ। খালটি কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে যুক্ত। ভরাট করার কারণে এই খাল দিয়ে নগরের ময়লা-আবর্জনা বা পানি অপসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।
নগরে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ প্রকল্পের আওতায় জেল খালে বাঁধ দিয়ে এ কাজ হচ্ছে। কাজটি সিটি করপোরেশনের। তবে বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. লুৎফর আলম বলেন, অস্থায়ীভাবে খালটিতে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। তবে পানি অপসারণের জন্য বাঁধের নিচ দিয়ে ১০ ইঞ্চি ব্যাসের একটি পাইপ স্থাপন করা হবে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ করে বাঁধটি কেটে দেওয়া হবে। বিষয়টি সিটি করপোরেশন জানে। তাদের জানিয়েই কাজ চলছে।
তবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব জানান, সিটি করপোরেশন কোনো খালে বাঁধ দিয়ে কাজ করছে কি না, এমন তথ্য তাঁদের জানা নেই। এমনকি অন্য কোনো দপ্তর কাজ করছে কি না, তা-ও তাঁরা জানেন না।
প্রকৌশলী লুৎফর আলম জানান, নগরে দুটি পানি শোধনাগারের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পানি সরবরাহের জন্য চলছে পাইপ স্থাপনের কাজ। পাইপ স্থাপনের জন্য নথুল্লাবাদ এলাকায় ব্রিজ ক্রসিং (সেতু অতিক্রম) পাইলের জন্য অস্থায়ীভাবে জেল খাল আটকে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, নথুল্লাবাদের জেল খালে আড়াআড়িভাবে বাঁশ পুঁতে প্রায় ৪০ ফুট আটকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চলছে বালু ভরাটের কাজ। এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ফিরোজ হোসেন বলেন, কয়েক দিন আগে দুদিকে বাঁশ পোঁতা হয়েছে। এখন চলছে ভরাটের কাজ। বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কাজ করছে বলে তিনি জানান। নগরবাসীর শঙ্কা, উন্নয়নের নামে বাঁধ দেওয়ায় খাল দখল হয়ে যেতে পারে। পানি অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় বাড়বে জনদুর্ভোগ। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে খালটি। তাঁরা খালের অস্তিত্ব রক্ষা করেই উন্নয়নকাজ করার দাবি জানান।
নগর সৌন্দর্য রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, এর আগে নাজির মহল্লা এলাকায় জেল খালের ওপর সেতু নির্মাণের নামে কালভার্ট নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন। ওই কালভার্টের কারণে খালের অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। দখলও হয়েছে দুই পাশ। বর্তমানে পাইপ নেওয়ার নামে বাঁধ দেওয়ায় খালের ওই অংশটিও দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি খাল ভরাট না করে ও প্রবাহ ঠিক রেখে কাজ করার পরামর্শ দেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন