default-image

তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটির নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডের নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন-সংক্রান্ত সংবিধানের ১২৫ (গ) অনুচ্ছেদ অনুসরণ না করায় প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়েও। আলোচনা হচ্ছে, রিট দায়েরের খবর জানার পর শুনানিতে তাদের অংশ না নেওয়া এবং এর বিপরীতে গণমাধ্যমে আদালতের আদেশ জানার পর তফসিল স্থগিত করার ক্ষেত্রে ইসির দ্রুত উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে।

২০১১ সালে ইসির পরামর্শে সংবিধানে একটি অভূতপূর্ব বিধান যুক্ত হয়েছিল। সেই ১২৫ (গ) বিধানে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনকে ‘যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির’ সুযোগ না দিয়ে আদালত কোনো আদেশ দেবেন না।

নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেছেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তফসিল বিষয়ে আদালতের কোনো ‘যুক্তিসংগত নোটিশ’ ইসি পায়নি। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিশ্চিত করেন, এ বিষয়ে তাঁরা আদৌ কোনো নোটিশ পাননি। তবে গণমাধ্যমে রুল জারির খবর জেনেছেন। ইসিকে বাদীর পক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়ার কথা আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবীর নিশ্চিত করার তথ্য প্রথম আলোকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।

নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র হেলালুদ্দীন আহমেদ অবশ্য বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম আদালতে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে ইসির কোনো আগাম পরামর্শ হয়নি। এ মামলা পরিচালনায় ইসি তাঁকে নির্দিষ্টভাবে নিয়োগ দেয়নি। তাঁকে কোনো ওকালতনামাও দেওয়া হয়নি।

অন্যতম প্যানেল আইনজীবী হিসেবে আদালত থেকে মৌখিক খবর পেয়ে তৌহিদুল ইসলাম আদেশের দিন শুনানিতে অংশ নেন। আদেশের দিন শুনানিতে অনধিক পাঁচ মিনিট অংশ নিয়ে তৌহিদুল ইসলাম তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন। এক. নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে রিট চলে না। দুই. সীমানা পুনর্নির্ধারণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তিন. ভোটার তালিকা ঘোষণা করেই ইসি তফসিল ঘোষণা করেছে।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর রিট চলে কি না, সে প্রশ্নে ১৯৫২ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে পুণ্যস্বামী বনাম রিটার্নিং অফিসার মামলায় একটি আইনি মীমাংসা হয়। তাতে বলা হয়, সাধারণভাবে কোনো নির্বাচনের বৈধতার প্রশ্ন রিটে অচল। সে অনুসারে ‘নির্বাচনী দরখাস্ত’ ছাড়া বাংলাদেশের সব স্তরের নির্বাচনী আইনেও কোনো নির্বাচনের বৈধতার প্রশ্ন না তোলার বিধান করা হয়।

আইন কী বলে
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন, তফসিল নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ। তা ছাড়া আইনে সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেকোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করতে আদালতের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে।

২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৩৭ (১) ধারা বলছে, ‘এই আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচন বা গৃহীত নির্বাচনী কার্যক্রমের বিষয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত, কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না। (২) কোনো নির্বাচনের প্রার্থী ব্যতীত, অন্য কোনো ব্যক্তি উক্ত নির্বাচন বা নির্বাচনী কার্যক্রম বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন ও প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিতে পারিবেন না। (৩) এই আইনের ধারা ৩৮-এর অধীনে গঠিত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাচনী অভিযোগপত্র পেশ করিতে হইবে। (৪) কোনো আদালত করপোরেশনের কোন মেয়র বা কাউন্সিলরের নির্বাচন মূলতবী রাখিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করিতে পারিবে না।’

২০০৮ সালে যা ঘটেছিল
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে কয়েকটি মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতার প্রশ্নে রিট দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট তার কিছু গ্রহণ এবং কিছু নাকচ করেছিলেন। তবে মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও বিএনপির মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদেরসহ কয়েকজনের বিষয়ে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি জয়নাল আবেদিন বাতিল করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে কথা স্মরণ করে তৎকালীন সিইসি এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ‘আদেশগুলো খুব ভুগিয়েছিল।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, কী কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল, সে তথ্য না শুনেই, এমনকি প্রতীক বরাদ্দ করেও কিছু আদেশ হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১০ সালে তফসিল ঘোষণার পরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ চেয়ে করা রিট আপিল বিভাগ অচল বলেই গণ্য করেন।

২০১০ সালের ১৫ জুলাই মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. ফজলুল করিম, এম এ মতিন, এস এ এন মমিনুর রহমান, এ বি এম খায়রুল হক, মো. মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি এস কে সিনহার সমন্বয়ে গঠিত ছয় সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে ১৯৮৯ সালে ৪১ ডিএলআরএ মুদ্রিত আপিল বিভাগের শাহ আলম বনাম মজিবুল হক মামলার রায় দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন। সে রায়ে বলা হয়েছিল, নির্বাচনী তফসিলের পরে রিট চলবে না। ২০১০ সালের রায়টিতে বলা হয়, নির্বাচনী তফসিলের প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলাফলের প্রজ্ঞাপন জারি করে সে প্রক্রিয়া শেষ হয়। এর মাঝখানে আদালতের হস্তক্ষেপ চলবে না। দুটিমাত্র ব্যতিক্রমে এর ব্যত্যয় হতে পারে। এক. যারা নির্বাচনী তফসিল দিয়েছে, তাদের সেটি দেওয়ার আদৌ কোনো এখতিয়ার না থাকলে। দুই. যে আইনে নির্বাচন হচ্ছে, সেটিই বিদ্বিষ্টভাবে প্রণীত হলে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে আপিল বিভাগ বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের আদেশটি বাতিল করেন। এই রায়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাংসদ পদ চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু তাঁর সাংসদ পদ বা মন্ত্রিত্ব কিছুই বিঘ্নিত হয়নি।

যেভাবে এল ১২৫ (গ)
১৯৭২ সালের সংবিধানে ১২৫ (গ) অনুচ্ছেদটি ছিল না। তবে ১০২ অনুচ্ছেদের ৪ উপদফায় ‘জনস্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর’ কোনো বিষয়ে রিট দরখাস্ত নিষ্পত্তি করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘যুক্তিসংগত নোটিশদানের’ বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। বিধানটি এখনো সচল।

তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা প্রথম আলোকে বলেছেন, সংবিধানে ১২৫ (গ) বিধানটি যুক্ত করার পেছনে রয়েছে ইসিকে না শুনে মনোনয়নপত্র বাতিলের ইতিহাস। তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে আইন ও সংসদীয় মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আমন্ত্রণ করেছিলেন। পুরো কমিশন সে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিয়েছিলাম। সেখানে আমরা বলি, আদালত এভাবে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিলে আমরা কীভাবে কাজ করব? আমরা তিন সদস্যের কমিশনকে পাঁচ সদস্যে উন্নীত করার বিধান করারও বিরোধিতা করেছিলাম। সেটি গ্রাহ্য করা হয়নি।’

২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের নির্বাচন কমিশনে ৫ বছর বইয়ে জানা যায়, রিটে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের কারণে ১৭ আসনের ১১ জন নতুন প্রার্থীর জন্য তাঁরা প্রায় ২৪ লাখ ব্যালট পেপার পুড়িয়েছিলেন। বড় ঋণ খেলাপের কারণে বাতিল হয়ে যাওয়া প্রার্থীরাও চেম্বার জজের আদেশের কপি হাতে করে নির্বাচন কমিশন অফিসে আসেন। কমিশন ভোটের মাত্র নয় দিন আগে তাদের নাম টুকে ব্যালট পেপার ছেপেছিল। সাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একটি উক্তি মিডিয়ার শিরোনামে পরিণত হয়েছিল। তিনি শ্লেষের সঙ্গে বলেছিলেন, আদালত আমাদের সুপারম্যান মনে করেছেন। আমাদের কাছে অলৌকিক শক্তি আছে!’

১২৫ (গ) বিধানটি কী করে এল জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন ভিএস রমাদেবি ও এস কে মেন্দিরাত্তার লেখা হাউ ইন্ডিয়া ভোটস দেখিয়ে জানান, বইটিতে ১৯৫২ সালের পুন্যস্বামী মামলার রায়ের বরাত আছে। তিনি তাঁর বইয়ের ৪৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, সংবিধানের সংশোধনী কমিশনের চাহিদামতো হয়নি। ভারতীয় উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কমিশন আদালতের এখতিয়ার সীমিত করার সুপারিশ দিয়েছিল। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনী তফসিলের পর কোনো রিট আবেদনই করা যাবে না, এমন খসড়া বিধান আমরা আওয়ামী লীগকে দিয়েছিলাম। তারা সেটি রাখেনি।’

আপিল বিভাগের রায়
দেখা যাচ্ছে, ১৯৮৯ সালে দেওয়া রায়েই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তফসিলের পর রিট অকার্যকারিতা-সংক্রান্ত ভারতের উদাহরণকে আইনি ভিত্তি হিসেবে মেনে নেন। ১৯৯০ সালের ৩০ জানুয়ারি দেওয়া এক রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বিচারপতি এ টি এম আফজাল, বিচারপতি মোস্তাফা কামাল ও বিচারপতি লতিফুর রহমান ১৯৫২ সালের পুন্যস্বামী মামলার বরাত টানেন। রায়ে তাঁরা বলেন, ‘ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আগাগোড়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা তফসিলের পরে “যেকোনো বিরোধ যেকোনো পর্যায়ে” হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ পার্লামেন্টও এটা চায়নি।’ আপিল বিভাগের ওই বেঞ্চ তফসিলের পর রিট অচল-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের ১৯৮৯ সালের রায়ে পুনঃসমর্থন জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুন্যস্বামী মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তফসিলের পরে রিট অচল বলার পরে ১৯৭৮,১৯৯৬, ১৯৯৮,২০০০, ২০০৭ ও ২০০৯ সালে দেওয়া অর্ধডজন মামলায় ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালত সে রায়ের সঙ্গে একাত্ম থেকেছে। রায়গুলোর সারকথা হলো, নির্বাচনের সঙ্গে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকারের প্রশ্ন জড়িত বলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রিট অচল। দুয়েকজন ব্যক্তির ক্ষোভের প্রতিকারের জন্য নির্বাচন বন্ধ করা অর্থহীন। ত্রুটিবিচ্যুতি সত্ত্বেও নির্বাচন স্থগিত করা যাবে না। বৈধতার প্রশ্ন ভোটের পরও সুরাহা করা যাবে, তখন প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিল করাও যাবে।
ঢাকা সিটি নির্বাচনের রিট মামলায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমানের কাছ থেকে জানা যায়, তাঁরাও আদালতে অনুরূপ যুক্তি দিয়েছিলেন। আদালতকে তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, ‘নির্বাচন অনেক বড় বিষয়। গুটিকয় মানুষের জন্য বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থহানি করা ঠিক নয়।’

হাইকোর্টের সমর্থন
বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক রায়েও তফসিল ঘোষণার পর রিটের অকার্যকরতার বিষয়ে সমর্থন পাওয়া যায়। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ একটি রিট খারিজ করে হাইকোর্টের বেঞ্চ শাহজাহান বনাম ইসি মামলার রায়ে বলেন, একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় যথাসময়ে ভোট হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর জামাল উদ্দিন বনাম মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম মামলায় হাইকোর্টের বেঞ্চ মন্তব্য করেন, সংবিধানের ১২৫ (গ) বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কথা না শুনে কোনো আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে পারবেন না। শর্তটি অবশ্যমান্য।

এ ব্যাপারে জানতে প্রথম আলো আইনবিদ শাহদীন মালিকের মুখোমুখি হয়েছিল, যিনি ২০১৪ সালে ইসির সব মামলার ব্রিফ ফিরিয়ে দিয়ে তাদের আর কোনো মামলা পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শাহদীন মালিক বলেন, যদিও তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রুলের জবাব দিতে তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে না। চার সপ্তাহের জন্য রুল জারির অর্থ হলো, এ সময়ের মধ্যে জবাব দিয়ে মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি চাওয়া যেতে পারে। হাজার হাজার রুলের ভিড়ে চার সপ্তাহের মাথায় শুনানির দিন ধার্য হয় না। তবে জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ইসির কৌঁসুলির নিবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত ফেব্রুয়ারির শুরুতেই শুনানির সময় স্থির করতে পারেন। শুনানিতে আদালত সন্তুষ্ট হলে রিটকারীর দরখাস্ত খারিজ করে ইসিকে পুনঃতফসিল ঘোষণার অনুমতি দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মধ্য এপ্রিলে বা তার আগে নির্বাচন হতে আইনি বাধা থাকবে না।

ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মনে হচ্ছে, শুনানিতে ইসির আইনজীবী তফসিল ঘোষণার কারণগুলো লিখিতভাবে জানাতে আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেনি, কিংবা সংবিধানের ১২৫ (গ)-এর দিকে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। এখন ইসির উচিত হবে স্থগিতাদেশ রদ করার জন্য আপিল করা। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের কাছে সংবিধানের ১২৫ (গ) অনুসরণ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।

আদালতের আদেশের পরে ইসি এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সভায় বসেনি। হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, আদালতের লিখিত আদেশ ছাড়া ‘পরবর্তী পদক্ষেপ’ নেওয়ার জন্য তাঁদের পক্ষে বৈঠকে বসা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, লিখিত কপি না পেয়েই ইসি আদালতের আদেশ কার্যকর করেছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন