default-image

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় দুর্গম এলাকার একটি পাহাড়ি ঝরনা দেখে ফেরার পথে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে দুই পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। খরস্রোতা পাইন্দু খাল পার হওয়ার সময় হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানি এসে তাঁদের দুজনকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বলে সঙ্গীদের বরাত দিয়ে আজ রোববার পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার (এসপি) জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় লোকজন নিখোঁজ দুজনের উদ্ধারে কাজ করছেন। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এবং সেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্ক পর্যাপ্ত না হওয়ায় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সঠিকভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, নৌবাহিনীর চারজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তাসহ ছয়জনের একটি দল রুমা উপজেলায় অবস্থিত পাইন্দু খালের ‘তিনাপ সাইথার’ ঝরনায় যায়। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফেরার পথে পাইন্দু খাল পার হওয়ার সময় হঠাৎ তীব্র বেগে পাহাড়ি ঢলের পানি এসে দুজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তাঁরা হলেন সাব লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ (২৩) ও ঢাকার একটি আর্ট কলেজের ছাত্রী জান্নাত মজুমদার (১৮)। তিনাপ সাইথার ঝরনা রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় বিস্তারিত জানা যায়নি। ফিরে আসা চারজন হলেন লেফটেন্যান্ট আশিক (২৫), লেফটেন্যান্ট তৌকির (২৪), সাব লেফটেন্যান্ট আশিক (২৪) ও তাঁদের বন্ধু আবু সাঈদ (২৫)। তাঁরা সবাই ঢাকা থেকে এসেছেন।

রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঝরনাটি রুমা উপজেলায় হলেও ঝরনা দেখতে যাওয়া ছয়জনের দলটি রোয়াংছড়ি হয়ে গিয়েছিল। রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভোরে তাঁরা রনিনপাড়ায় যান। সেখান থেকে দুপুরে একজন স্থানীয় পথপ্রদর্শক (গাইড) নিয়ে ঝরনায় গেছেন।

রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের রনিনপাড়া এলাকার সদস্য লাল রাউ বম জানিয়েছেন, বিকেলে তিনাপ সাইথার ঝরনা এলাকায় প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঝরনা থেকে ছয়জন রনিনপাড়ায় ফিরে আসছিলেন। পাইন্দু খাল পাড় হওয়ার সময় হঠাৎ উজান থেকে বিকেলে বৃষ্টি হওয়া পানি নেমে আসে। এ সময় চারজন কোনো রকমে খাল অতিক্রম করতে পারলেও দুজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উ হ্লা মং জানিয়েছেন, আজ বেলা ৩টা পর্যন্ত নিখোঁজ দুজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0