default-image

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার দশমিনা ও রণগোপালদি ইউনিয়নের উপকূলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীর ঘেঁষে প্রায় ১৭ কিলোমিটার এই বাঁধের পৃথক স্থানে সাড়ে ৪ কিলোমিটার অংশে ব্লক বসানো হচ্ছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থেকে যাচ্ছে সাড়ে ১২ কিলোমিটার। এ কারণে এলাকাবাসীর আতঙ্ক কাটছে না।

জানতে চাইলে রণগোপালদি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময়ে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বর্ষা মৌসুমে জোয়ারে এই বাঁধের অধিকাংশ ভেঙে গেছে। ২০০৭ সালে সিডরের আঘাতে বাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীরবর্তী আউলিয়াপুর, দক্ষিণ আউলিয়াপুর, জৌতা, গুলি, খলিশাখালীসহ আশপাশের গ্রামগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদের তীরবর্তী এলাকার তিনজনের মৃত্যু হয়। এ কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলেই উপকূলের মানুষজন আতঙ্কে দিন কাটায়। অনেক বছর পর টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু পুরো বাঁধ ব্লক বসিয়ে টেকসই করা হচ্ছে না। ফলে আসছে বর্ষা মৌসুমে জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বাঁধ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই আতঙ্ক লোকজনের মধ্যে থাকছেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘ইমারজেন্সি সাইক্লোন রিস্টেশন ও রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট-২০০৭’-এর আওতায় দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীরবর্তী বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয়। ২০১৫ সালে দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমবিইএল এবং ভারতীয় এমবিএল প্রতিষ্ঠান।

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী কে এম হুদা বলেন, এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দশমিনার হাজিরহাট থেকে রণগোপালদি ইউনিয়নের দক্ষিণ রণগোপালদি পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত। এর মধ্যে ৬ দশমিক ৩৬৫ কিলোমিটার সম্পূর্ণ নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই বাঁধের দশমিনার তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী সৈয়দ জাফর গ্রাম, আউলিয়াপুর ও রণগোপালদির চরঘূর্ণি অংশের ৪ দশমিক ৫৫০ কিলোমিটার এলাকায় ব্লক বসিয়ে প্রতিরক্ষাবাঁধ নির্মাণকাজ রয়েছে। এ ছাড়া এই প্রকল্পে পানিনিষ্কাশনের জন্য নয়টি নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ ও পুরোনো বাঁধটি মেরামত করা হচ্ছে। আগামী জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প সমন্বয়কারী মনিরুজ্জামান বলেন, ব্লক নির্মাণসহ বাঁধে বসানোর কাজ পুরোদমে চলছে। জুন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

পাউবোর পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, প্রকল্প অনুযায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পয়েন্টে ব্লক বসিয়ে টেকসই করা হচ্ছে। তবে বেড়িবাঁধের সম্পূর্ণ অংশে ব্লক বসানো হলে আরও টেকসই হতো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন