টানা অবরোধ ও দফায় দফায় হরতালের কারণে সড়ক-মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চলাচল নেই বললেই চলে। এ সুযোগে পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ নছিমন-করিমন সড়কপথে এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা নৌপথে প্রধান গণপরিবহন হয়ে উঠেছে।
সড়ক ও নৌপথে চলাচলকারীরা জানান, হরতাল-অবরোধের কারণে ৪০ দিনের বেশি সময় ধরে সড়কপথে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নেই। প্রথম দিকে মানুষ খুব একটা রাস্তায় বের না হলেও বাধ্য হয়েই অনেককে এখন পথে নামতে হচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য বেছে নিচ্ছেন বিকল্প পথ ও যানবাহন। বিকল্প যানবাহনের মধ্যে এখন নছিমন-করিমন হয়ে উঠেছে সড়কপথের প্রধান গণপরিবহন। এ ছাড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকাও অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে যাতায়াতের অন্যতম ভরসা।
পরিবহন-সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার নছিমন-করিমন রয়েছে। হরতাল-অবরোধের আগে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এ যানগুলো পুলিশি বাধায় নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করলেও এখন আর সেই বাধা নেই। পুলিশের ভয়ে যেসব নছিমন-করিমন বসিয়ে রাখা হয়েছিল, সেগুলোও এখন মহাসড়কে নামানো হয়েছে। হরতাল-অবরোধকে পুঁজি করে সড়ক-মহাসড়কে এগুলোর চলাচল ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
নছিমন-করিমনে আসা যাত্রীদের ওপর নির্ভর করে ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোও এখন প্রচুর যাত্রী পাচ্ছে। ঢাকা, মানিকগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যেতে লোকজন নছিমন-করিমন ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার ওপর ভরসা করছেন।
সরেজমিনে বেড়ার কাজীরহাট গিয়ে দেখা গেছে, কিছুক্ষণ পর পর নছিমনে করে যাত্রীরা কাজীরহাট নৌঘাটে আসছেন। এরপর যাত্রীরা সেখান থেকে লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আরিচা যাচ্ছেন। আরিচা থেকে যাত্রীদের কেউ কেউ বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছেন আবার কেউ অন্য লঞ্চ অথবা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দৌলতদিয়া নৌঘাটে যাচ্ছেন। দৌলতদিয়া থেকে লোকজন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে যেতে অনেকে আবার নছিমন-করিমনে নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাটে গিয়ে সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছেন।
বুধবার সকালে বেড়া উপজেলার মোহনগঞ্জ নৌঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা আরিচার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। ছেড়ে যাওয়ার আগে কথা হয় সাঁথিয়া উপজেলার রেজাউল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। বিশেষ প্রয়োজনে সোমবার বাড়িতে এসেছিলেন। কাজ সেরে আবার ঢাকায় ফিরছেন। তিনি জানান, ঢাকার গাবতলী থেকে আরিচা পর্যন্ত লোকাল বাসের চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক। আরিচা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বেড়ার মোহনগঞ্জ নৌঘাটে এসে নছিমনে করে বাড়ি গিয়েছিলেন। একইভাবে তিনি ঢাকায় ফিরছেন।
নৌকার মাঝি ইসাহাক আলী জানান, মোহনগঞ্জ থেকে আরিচা যেতে সাড়ে তিন ঘণ্টা, আর ফিরতে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো সময় লাগে। অবরোধ-হরতালের কারণে ঢাকায় যেতে লোকজন এ পথটিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় যাত্রী কিছুটা বেশি হচ্ছে।
বেড়া বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় নছিমন-করিমনের মাস্টার (নিয়ন্ত্রণকারী) নশকর আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, হরতাল-অবরোধের আগে মহাসড়কে চলাচল করতে গেলে পুলিশ বাধা দিত। কিন্তু এখন কোনো বাধা নেই। যাত্রীও আগের চেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
মহাসড়কে নছিমন-করিমন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় ওয়ার্কশপে তৈরি বলে এগুলোর ব্রেক থেকে শুরু করে বেশির ভাগ যন্ত্রাংশই ত্রুটিপূর্ণ। তাই প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আবার পদ্মা ও যমুনার মতো নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচলও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এসব যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। বুধবার কাশীনাথপুরে ট্রাকচাপায় যাত্রীবাহী করিমনের পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু তেমনই একটি দুর্ঘটনা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন