খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট

ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন
default-image

সারা বিশ্বে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ঘটে ১৫টি দেশে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে যত মানুষ মারা যায়, তার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশের জন্য দায়ী খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লাটভিয়া ও স্লোভেনিয়া ইতিমধ্যেই ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত নীতি (প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ২ গ্রাম ট্রান্সফ্যাট) গ্রহণ করেছে। ট্রান্সফ্যাট গ্রহণে ঝুঁকিপূর্ণ বাকি ১১টি দেশ- বাংলাদেশ, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, মেক্সিকো, নেপাল, কোরিয়া, মিশর, আজারবাইজান, ভুটান ও ইকুয়েডরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক নীতি গ্রহণে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিকে এই প্রতিবেদনটির নাম ‘ডব্লিউএইচও রিপোর্ট অন গ্রোবাল ট্রান্সফ্যাট এলিমিনেশন ২০২০’। এতে বলা হয়, সারা বিশ্বে এই পর্যন্ত ৫৮টি দেশ ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের নীতি গ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ৩২০ কোটি মানুষ সুরক্ষা পাবে। নীতিমালার অভাবে এখনো ১০০টির বেশি দেশ ট্রান্সফ্যাট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক এই বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেইসাস বলেন, এখন এমন একটা সময় যখন গোটা বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে লড়াই করছে এবং সবাইকে একইসঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে ট্রান্সফ্যাট মুক্ত বিশ্ব অর্জনের যে লক্ষ্য রয়েছে তা কোনাভাবেই দেরি করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে বাজারে পাওয়া ডালডায় ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি পেয়েছেন বাংলাদেশের গবেষকেরা। তাঁরা গবেষণায় পেয়েছেন, এই উচ্চমাত্রার ট্রান্সফ্যাটযুক্ত ডালডা গ্রহণের সঙ্গে উচ্চহারে হৃদ্‌রোগ, স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া) ও স্মৃতিহানি রোগ ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত। গত শনিবার প্রকাশিত হওয়া ওই গবেষণায় এসেছে, বাজারের ৯২ শতাংশ পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (পিএইচও) বা ডালডায় দশগুণের বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গিয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও-তে সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৯ গ্রাম ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ২ গ্রাম ট্রান্সফ্যাট খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নীতি তৈরি করতে বলেছে।
ওই গবেষণা প্রতিবেদনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা, গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক সীমা নির্ধারণে দ্রুত নীতিমালা তৈরি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন