বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভবন ও কারখানার মালিকপক্ষের উদাসীনতা এবং সরকারি তদারক সংস্থার গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার মানুষ মারা যাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে, তারা ২০২০ সালে আগুনের ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৫৪টি লাশ উদ্ধার করে। এর বাইরে এসব ঘটনায় হাসপাতালেও অনেকের মৃত্যু হয়। তা তাদের হিসাবে আসেনি।

যেমন নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে গত বছর যে ৩৪ জন হাসপাতালে মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের নাম ফায়ার সার্ভিসের মৃত্যুর হিসাবে নেই। ফলে সব মিলিয়ে আগুনে মৃত্যুর ঘটনা আরও বেশি।

ফায়ার সার্ভিস ২০২০ সালে সারা দেশে ৫ হাজার ২০৭টি ভবন পরিদর্শন করে। এগুলোর মধ্যে সন্তোষজনক পরিস্থিতি পাওয়া যায় মাত্র ৫০২টি ভবনে, যা মোট ভবনের ১০ শতাংশ। বাকি ২৩ শতাংশ ভবনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৬৭ শতাংশ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখতে পায় তারা।

ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শনের সংক্ষিপ্তসারে ভবনের ধরন ও মালিকানার বিষয়টি উল্লেখ নেই। তবে তাদের আরেকটি জরিপে বিস্তারিত রয়েছে। এ জরিপ করা হয়েছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরে। এতে দেখা যায়, বেশি ঝুঁকিতে আছে বিপণিবিতানগুলো। ১ হাজার ৫৯৫টি বিপণিবিতান পরিদর্শন করে ৪২ শতাংশে অতিঝুঁকি ও ৫৬ শতাংশে ঝুঁকি পাওয়া যায়।

default-image

এই জরিপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯২, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ৯১, ব্যাংকের ৭৫ এবং আবাসিক হোটেলের ৮৭ শতাংশে ঝুঁকি ও অতিঝুঁকি পাওয়া যায়। গণমাধ্যমের কার্যালয়ের ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশে পরিস্থিতি ঝুঁকি ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, কোনো ভবনে আগুন লাগলে সেটি প্রতিরোধ করার মতো কোনো ব্যবস্থাই যদি না থাকে, তবে ভবনটিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ফেলা হয়। আর দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা অপ্রতুল থাকলে ভবনকে বা স্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভবনের ঝুঁকি চিহ্নিত করে আমরা সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিই। ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।’ তিনি জানান, মাঝে মাঝে ভবনমালিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে করোনাকালে তা বন্ধ রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপ করে জরিপের ফলাফল মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তর অথবা সংস্থাকে জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পরিদর্শনে পাওয়া ঘাটতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভবনমালিক অথবা প্রতিষ্ঠানকে জানানো হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা ব্যবস্থা নেয় না।

যেমন ঢাকার গুলশানের একটি বিপণিবিতানকে তিন দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, তাদের তালিকায় ভবনটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এক মাস আগেও ভবনটি পরিদর্শন করে ঝুঁকির বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু ভবনটিতে কার্যক্রম চলমান।

ভবনটি যেহেতু সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায়, সেহেতু চিঠি দেওয়া হয়েছিল করপোরেশন কর্তৃপক্ষকেও। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, এটা ব্যক্তিমালিকানার বিপণিবিতান। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে করপোরেশনের কিছু করার নেই।

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে দুর্ঘটনার পর বেরিয়ে আসে, প্রায় তিন মাস ধরে তিতাসের গ্যাস পাইপের ফুটো থেকে গ্যাস বেরিয়ে মসজিদে জমা হয়েছিল। গ্যাসের বিষয়টি ধরা পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় গত ২৩ এপ্রিল দুর্ঘটনার পর জানা গেল, ভবনটিতে দাহ্য রাসায়নিকের দোকান ছিল। এ ঘটনায় মারা যান আটজন।

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহম্মেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। ফায়ার সার্ভিস পরিদর্শনের পর নানা সুপারিশ দেয়, যা ফাইলবন্দী থাকে। এ কারণে সমস্যার সমাধান হয় না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন