সাতকানিয়ার রহিমা বেগমের স্বামী দুবাই থাকেন। স্ত্রীকে সে দেশে নেওয়ার জন্য দুই মাস আগে পাসপোর্ট নম্বর জানতে চেয়েছেন। তবে অবরোধ–হরতালের কারণে এত দিন পাসপোর্ট কার্যালয়ে যাওয়া হয়নি রহিমার। শেষমেশ ঝুঁকি নিয়ে পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে এসে আবেদন করেছেন তিনি।
গত সোমবার পাঁচলাইশ পাসপোর্ট কার্যালয়ে রহিমার মতো বেশ কয়েকজনকে দেখা গেল যাঁরা হরতাল–অবরোধের মধ্যে দূরদূরান্ত থেকে ঝুঁকি নিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করতে এসেছেন। গত এক মাসে পাসপোর্টের আবেদন কমলেও উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি। তবে বিদেশযাত্রার জন্য ঠিক সময়ে পাসপোর্ট হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন অনেক আবেদনকারী। সাতকানিয়া থেকে কীভাবে এলেন জানতে চাইলে রহিমা বেগম বলেন, ‘তিন থেকে চারগ ুণ বেশি ভাড়া দিয়ে এখানে এসেছি। যেকোনোভাবেই হোক পাসপোর্টটা পেতেই হবে।’
চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় ও পাঁচলাইশ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রামে পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ে ২৩ হাজার ৩৭৫টি। আর জানুয়ারি মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ২৮১টিতে। জানুয়ারি মাসে পাসপোর্টের ফি বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। আর ডিসেম্বর মাসে এ খাতে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৭ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
গত রোববার নগরের ডবলমুরিং এলাকায় মনসুরাবাদ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে দেখা গেছে, ভিড় না থাকলেও আবেদনকারীর সংখ্যা একেবারে কম নয়। হাটহাজারী থেকে পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা দিতে এসেছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া শেষ করে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে শুনেছি সৌদি আরবে আবারও লোক নেওয়া হবে। কিন্তু পাসপোর্ট না থাকায় নিবন্ধন করতে পারছি না। তাই ৫০০ টাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দিয়ে পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা দিতে এসেছি। হরতাল-অবরোধ না থাকলে বাসে ৫০ টাকায় চলে আসতে পারতাম।’ এখানকার আবেদনকারীদের অনেকে ভ্রমণ, চাকরি, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যেতে চান বলে জানালেন। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঠিক সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায়ও ভুগছেন তাঁরা। এমনকি দীর্ঘ আট বছর বন্ধ থাকার পর সৌদি আরবের শ্রমবাজার খুললেও পাসপোর্ট না থাকায় অনেকেই আবেদন করতে পারেননি।
নগরের মনসুরাবাদে অবস্থিত চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে দূরদূরান্ত থেকে পাসপোর্টের আবেদনকারীদের অনেকে আসতে পারেননি। এর পরও বহু আবেদনকারী ঝুঁকি নিয়ে আসছেন।
একই কথা জানালেন নগরের পাঁচলাইশ পাসপোর্ট কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু সাঈদ। তিনি বলেন, পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা দিতে আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে হয়। নেওয়ার সময়ও আবেদনকারীকে আসতে হয়। এ কারণে হরতাল-অবরোধে আবেদনকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন