রাস্তা দিয়ে না গিয়ে টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের প্রাঙ্গণ দিয়ে হেঁটে যাওয়ায় গত বুধবার নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষকেরা এক কিশোরকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বেতের আঘাতে ছাত্রের ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আহত ওই ছাত্রের নাম মিরাজ হোসেন (১৭)। সে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
ঢাকার ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সালেহ আহমেদ বলেন, মিরাজের ডান চোখের দুই-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তার ওই চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আশা খুবই কম। ডান চোখের রেটিনায় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। মিরাজ ডান চোখের জ্যোতি ফিরে পাবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে অস্ত্রোপচার শেষে। এ জন্য আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
আহত ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা বলেন, মিরাজ টঙ্গী পাইলট স্কুল থেকে গত বছর এসএসসি পাস করে। বুধবার সকালে সে টঙ্গী কলেজ রোডের বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়। পথে এক বন্ধুর কাছ থেকে নোট নিতে সে সুলতানা রাজিয়া রোডে যাচ্ছিল। সময় বাঁচাতে মিরাজ টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের মাঠ দিয়ে হাঁটা দেয়।
পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের ফটক দিয়ে ভেতরের রাস্তায় প্রবেশ করতেই স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আটকান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় পাইলট স্কুলের শিক্ষক শাহাবুদ্দিন সজীব আসেন। একপর্যায়ে তিনি মিরাজকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষক শাহাবুদ্দিন অধ্যক্ষের সামনেই মিরাজকে মোটা বেত দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। একপর্যায়ে বেত মিরাজের ডান চোখে লেগে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে মিরাজ অন্য লোকজনের সহায়তায় স্থানীয় একটি চক্ষু হাসপাতালে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত ছাত্রের মা বিলকিস সুলতানা বলেন, গত বৃহস্পতিবার তিনি অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ গত তিন দিনেও অভিযোগটি মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করেনি।
অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি মিরাজকে মারধর করেননি। ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করায় অভিভাবকেরা তার ওপর চড়াও হন। পরে তিনি মিরাজকে উদ্ধার করেন।
টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ছুটি হওয়ার সময় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার উদ্দেশ্যে ওই দিন মিরাজ স্কুলের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকে। তখন নিরাপত্তাকর্মী বাধা দিলে সে তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।
টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বলেন, আহত ছাত্রের মা বিলকিস সুলতানা স্কুলের শিক্ষক শাহাবুদ্দিন ও নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। অপরদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ আহত ছাত্র মিরাজের বিরুদ্ধে ছাত্রী উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন