দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বেলাল উদ্দিন। ভেবেছিলেন দেশ স্বাধীন হলে তাঁদের অবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে অনেকের অবস্থার পরিবর্তন হলেও তাঁরা দরিদ্রই থেকে গেছেন।
মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নেই বেলাল উদ্দিন (৬৮) ও তাঁর পরিবারের। থাকেন মানুষের বাড়িতে। কয়েক বছর আগে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তাঁর শরীরের এক পাশ অচল হয়ে গেছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।
মুক্তিযোদ্ধা বেলাল উদ্দিন জানান, তাঁর জন্ম পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় গ্রামে। বাবা তমিজউদ্দিন ছিলেন কৃষি শ্রমিক। মা গৃহিণী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় অনেক সময় না খেয়েও থেকেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি তরুণ ছিলেন। এপ্রিল মাসে বন্ধু আর গ্রামের মুরব্বিদের উৎসাহে তিনিও যুদ্ধ করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে ক্যাপ্টেন ইকবালের নেতৃত্বে বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মুখোমুখি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুর দুয়ার থেকে অনেকবারই বেঁচে গেছেন। দেশ স্বাধীন হলে ফিরে আসেন গ্রামে। কিন্তু দারিদ্র্যতা পিছু ছাড়েনি। দিনমজুরির কাজ শুরু করেন। অর্থের অভাবে দুই ছেলেকে পড়াশোনাও করাতে পারেননি। ছেলেরা পঞ্চগড় চিনিকলে অনিয়মিত শ্রমিক। কয়েক বছর আগে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়লে ভিটেবাড়ির জমিটুকুও বিক্রি করে দেন। এখন তিনি পঞ্চগড় শহরের ইসলামবাগ এলাকার মকছেদ আলীর বাড়িতে থাকেন।
বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘পরের বাড়িতে থাকি। ভাতার টাকা দিয়ে কোনো রকমে চলি। দুঃখ একটাই, জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা এনেও শান্তিতে একটা দিন কাটাতে পারলাম না।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন