‘দ্বৈত শাসনে’র দ্বন্দ্বের নেপথ্যে-১

টানাপোড়েনের মূলে বিচারকদের বদলি

বিজ্ঞাপন
>

বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ ৯ পেরিয়ে ১০ বছরে পড়ল। সম্প্রতি বদলি, কর্মস্থল নির্ধারণ ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি একে ‘দ্বৈত শাসন’ বলে অভিহিত করেছেন। এর স্বরূপ সন্ধানে প্রথম আলোর অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আজ ছাপা হলো প্রথম প্রতিবেদন

default-image


প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বর্ণিত ‘দ্বৈত শাসন’-এ সরকারের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের টানাপোড়েনের অন্যতম মূল কারণ বিচারকদের বদলি। এ নিয়ে বিচার প্রশাসনে চলছে একধরনের অস্বস্তি। ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ছিল যে প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাইয়ে বিচারকদের বদলি করা হবে। কিন্তু তা কার্যকর হচ্ছে না।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, গত বছর সরকার প্রতি কার্যদিবসে গড়ে পাঁচজন বিচারককে বদলির প্রস্তাব করে। সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে কিছুটা রক্ষণশীল মনোভাবের পরিচয় দিলেও প্রতি কার্যদিবসে গড়ে তাঁরাও প্রতিদিন চারজন বিচারককে বদলির প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। সরকারকে বর্তমানে বদলি-সংক্রান্ত পরামর্শ দেন প্রধান বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের অপর তিন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএ) কমিটি। চার মাস পরে সরকারের প্রায় দেড় শ বিচারক বদলির প্রস্তাব বিবেচনা করতে জিএ কমিটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে বলে জানা গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে টানাপোড়েন নিরসনের বিষয়ে গত সপ্তাহে জানতে চাইলে আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আলাপ-আলোচনা করে বিষয়টি সুরাহা করা হবে।
জানা গেছে, বদলি ও শৃঙ্খলাবিধান-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ার কারণে গত ১৯ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন জিএ কমিটি বৈঠকে বসেও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকে। পরে প্রধান বিচারপতির আমন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টে অধস্তন আদালত ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক হয়। এতে আপিল বিভাগের বিচারপতিরাও অংশ নেন। জিএ কমিটির সদস্য হিসেবে হাইকোর্টের তিন বিচারপতি এবং সরকারের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক ওই সভায় অংশ নেন। আপিল বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে অধস্তন আদালত বিষয়ে কোনো বৈঠক এটাই প্রথম। দায়িত্বশীল সূত্রমতে, সেখানে অন্তরঙ্গ পরিবেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু তারপর গত তিন মাসেও জিএ কমিটি আর কোনো বৈঠক করেনি।

হাইকোর্ট থেকে জিএ কমিটিতে আছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি সৈয়দ দস্তগীর হোসেন। সারা দেশের আদালতে অন্তত দেড় শ বিচারক বদলির প্রস্তাব গত প্রায় চার মাস বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে। অবশ্য বিশেষ বিবেচনায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বদলি ও কর্মস্থল নির্ধারণ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে।

২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপির অধস্তন আদালত-সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা জাখোঙ্গির খায়দারভ সম্পাদিত ‘এ চ্যালেঞ্জ ফর চেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দ্বৈত শাসনকে ‘বিচারিক স্বাধীনতার ধারণার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ এবং দ্বৈত শাসনের হালফিল সম্পর্কে মন্তব্য চাওয়া হলে সাবেক প্রধান বিচারপতি এম রুহুল আমিন গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, মাসদার হোসেন মামলার সম্পূর্ণ সুফল প্রাপ্তির জন্য ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বিচারকদের বদলি, কর্মস্থল নির্ধারণ ও শৃঙ্খলা বিধানের পুরো ব্যবস্থা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্যও এটা গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের প্রধান। কী প্রয়োজন ও কী চাহিদা সেটা একমাত্র তিনিই ভালো বলতে পারবেন। সুতরাং ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন ছাড়া সেটা অর্জন করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে যে ব্যবস্থা চলছে, সেটাই বেশ কার্যকর। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনীর চিন্তা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি তাতে ইতিবাচক মত দেননি।

উল্লেখ্য, গত বছর সরকারের দেওয়া বদলির প্রস্তাবের সরাসরি ৫৪ দশমিক ৭১ ভাগ এবং প্রস্তাবিত কর্মস্থল পরিবর্তন করে ২৮ দশমিক ৩৭ ভাগ বদলির প্রস্তাবে সুপ্রিম কোর্ট সম্মতি দেন। এর অর্থ দাঁড়ায় সরকারের মোট বদলি প্রস্তাবের ৮৩ দশমিক ০৮ ভাগই সুপ্রিম কোর্ট মেনে নিচ্ছেন। তবে বাকি যে ৪৫ শতাংশ প্রস্তাবে সুপ্রিম কোর্ট সায় দেননি, এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলোচনায় সেটিকেই আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি আশাবাদী যে, আলাপ-আলোচনা করে এই সমস্যার একটা সুরাহা সম্ভব হবে।

আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি দ্বৈত শাসনের কথা বলেছেন। ১৯৭২ সালে আমাদের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলা বিধানসহ সবকিছু ছিল সুপ্রিম কোর্টের অধীনে। দ্বৈত শাসনে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা স্পষ্ট। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এসব বিষয়ের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের কাছেই থাকতে হবে। অবশ্য কোনো সরকারই অধস্তন আদালতের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে চায় না, সে জন্যই দ্বৈত শাসন চালু থাকছে। আমাদের আশপাশের দেশে অনেক আগেই এ দ্বৈত ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।’

্রাধান্য কার: মাসদার হোসেন মামলার রায় বলেছে, বিচার বিভাগের পৃথক্‌করণকে আরও অর্থবহ করার জন্য পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধন করতে পারে। সংবিধান সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে একটি ‘দ্বৈত শাসন’ রায়ে অনুমোদন করা হয়। এর অর্থ হলো প্রেষণে থাকা আইনসচিবসহ একদল বিচারক আইন মন্ত্রণালয়ে বসবেন। সরকারের পক্ষে তাঁরা সারা দেশের প্রায় দেড় হাজার বিচারকের বদলি ও শৃঙ্খলাবিধানে প্রস্তাব করবেন। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মেনে চলবেন।

আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক মনে করেন, সংবিধানের বিদ্যমান ১১৬ অনুচ্ছেদ মতে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তাঁর বিশেষ অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। অবশ্য প্রথম আলোর কাছে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ শফিকুল ইসলাম তালুকদার। মাসদার হোসেন মামলার আদেশের আলোকে বর্তমান সরকার দ্বারা মনোনীত হয়ে তিনি গত বছর অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য শৃঙ্খলাবিধির খসড়া তৈরি করেছেন, যা এখন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন আছে।

শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘এ কথা সত্য যে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই পরামর্শ নেবেন। কিন্তু মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি দ্বারা সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের প্রাধান্য স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।’ রাষ্ট্রপতির প্রণীত বিধিতে বলা আছে, সুপ্রিম কোর্ট ও সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মধ্যে মতের ভিন্নতা হলে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ প্রাধান্য পাবে। ফলে এখন কোনো পরামর্শ অগ্রাহ্য করার আর সুযোগ নেই।

দলিই বিরোধের অন্যতম উৎস: দ্বৈত শাসনে বদলিই সব থেকে বেশি জটিলতা ও দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। সরকারের কাছ থেকে বদলির প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টে বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে এমন ১৫১ জনের ওপর পরিচালিত প্রথম আলোর সমীক্ষায় চমকপ্রদ ফলাফল বেরিয়ে এসেছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, তারা প্রধানত তিন বছরের মেয়াদ অতিক্রম করার কারণেই বদলির প্রস্তাব করে থাকে। কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গেছে, মেয়াদ পূর্ণ করা বদলির প্রস্তাব মোট বদলি প্রস্তাবের অর্ধেক। ১৫১ জনের মধ্যে একই কর্মস্থলে ৩ থেকে ৫ বছরের মেয়াদ অতিক্রম করেছেন, এমন বিচারকের সংখ্যা মাত্র ৩০। আড়াই থেকে ৩ বছর মেয়াদের বিচারক আছেন ৪৫ জন। সব থেকে বেশি বদলির প্রস্তাব করা হয়েছে যুগ্ম জেলা জজদের। তাঁরা সংখ্যায় ৫০। এরপরে রয়েছেন ৪০ জন সহকারী জজ। এ ছাড়া ১৬ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ১০ জন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আছেন। সমীক্ষায় দেখা যায়, বর্তমান কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর ৬ মাসও হয়নি, অথচ বদলির প্রস্তাব করা হয়েছে এমন বিচারকের সংখ্যা ২৮। ১ থেকে ২ বছর চাকরি করেছেন এমন ৩৪ জনকেও বদলির প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ জন্য তাঁদের একতরফা দায়ী করা ঠিক হবে না। এর কারণ পদোন্নতি, প্রশাসনিক, বদলির চেইন সমন্বয় (একটি বদলি আরেকটি বদলি অনিবার্য করে), স্বামী-স্ত্রীর একত্রে থাকা, চিকিৎসা। প্রতিটি ক্ষেত্রে কারণ ব্যাখ্যা করেই পরামর্শ চাওয়া হয়।

তাঁদের সব কারণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। অবশ্য এ-ও ঠিক যে, সুপ্রিম কোর্ট যখন স্বপ্রণোদিত বা বিকল্প কর্মস্থল দিয়ে কারও বদলি প্রস্তাব করেন, সেখানেও সব ক্ষেত্রে তিন বছর মেয়াদের শর্ত রক্ষা করা হয় না।

৭ ভাগ না: ২০১৫ সালে কমবেশি ২১২ কর্মদিবস বিবেচনা করে সরকারের বদলি প্রস্তাবে সুপ্রিম কোর্টের হ্যাঁ ও না গণনা করে দেখা যায়, সরকারের ৮৩ ভাগ বদলির প্রস্তাবই সুপ্রিম কোর্ট মেনেছেন। সরাসরি নাকচ করা বদলি প্রস্তাব মাত্র ১৭ ভাগ। তবে একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, সরকার শতভাগ ক্ষেত্রেই সম্মতি আশা করে।

আইন মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন হচ্ছে, ‘চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সরকারের প্রেরিত ২৬৪ জন বিচারকের বদলি প্রস্তাবের মধ্যে ১৪১ জনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট একমত (৫৩.৪০ ভাগ) হয়েছেন, ৮২ জনের ক্ষেত্রে একমত না হয়ে বিকল্প প্রস্তাব (৩১.০৩ ভাগ) দিয়েছেন এবং ৪১ জনের ক্ষেত্রে একমত হননি।’

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের কর্মদিবস (১০৬ দিন) বিবেচনায় সরকার প্রতিদিন আড়াই জনকে বদলির প্রস্তাব দিলেও সুপ্রিম কোর্ট মাত্র একজনের বিষয়ে একমত হয়েছেন। যেসব বদলির প্রস্তাব মেনে নিয়ে বিকল্প কর্মস্থল বেঁধে দেওয়া হয়, সেটা সরকার পছন্দ করে না। সরকারের কাছে সেটা না বলে গণ্য হয়।

প্রধানত ভালো কর্মস্থল (যেমন ঢাকা) কিংবা একই কর্মস্থলে তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আকস্মিক বদলি করাকে একধরনের লঘুদণ্ড মনে করা হয়। সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে এখানেই সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন চলে। অসময়ে বদলি বিচার প্রশাসনে ও বিচারকের পারিবারিক জীবনে দ্রুত বিরাট নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সূত্রগুলো ইঙ্গিত করেছে, যেকোনো সময় বড়জোর ২০ ভাগ বিচারক আকস্মিক বদলি হওয়ার আশা করতে পারেন। কিন্তু সারা বছর বদলি চলমান থাকায় গোটা বিচার প্রশাসনে একটা চাপা অস্বস্তি বাসা বেঁধে আছে।

এসব নিয়ে মাঝেমধ্যেই অচলাবস্থাও দেখা দেয়। চলতি বছরের গোড়ায় সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে তাঁর দেওয়া বদলি ইত্যাদি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি আলটিমেটাম দেন। আইনমন্ত্রী তখন দ্রুত আলোচনা করে জট নিরসনে উদ্যোগী হন। গত জুন মাসে ৩৭ জেলা জজ বদলির প্রস্তাবের মধ্যে ২৬ জনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট একমত হলেও ২৩ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বদলির প্রস্তাবের মধ্য থেকে মাত্র ২ জনের ক্ষেত্রে একমত হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট।

 নীতি আছে নীতি নেই: মাসদার হোসেন মামলার রায় বলেছে, কোনো বিচারকের নির্দিষ্ট মেয়াদে তাঁর কর্মস্থলে থাকা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য। বর্তমানে বদলি, কর্মস্থল ও পদোন্নতি নির্ধারণে কোনো বিস্তারিত লিখিত নীতি নেই। তবে সাবেক প্রধান বিচারপতি এম রুহুল আমিন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার সপ্তাহান্তে ২০০৮ সালের ৯ জুন এ বিষয়ে আইনসচিবকে একটি চিঠি (স্মারক নং ৭৩১৮ এ) দেন। এতে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার উভয়ের জন্য নির্দিষ্টভাবে একটি স্থায়ী বদলিনীতি স্থির করা হয়েছিল। এতে বলা হয়, ‘পদোন্নতিজনিত বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব না হলে সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে বদলির প্রস্তাব প্রেরণ ও তৎবিষয়ে অত্র কোর্টের পরামর্শ গ্রহণ অভিপ্রেত মর্মে অত্র কোর্ট অভিমত ব্যক্ত করেছেন।’ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এম এম রুহুল আমিন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

৩০ অক্টোবর ওই পরিপত্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জিএ কমিটি ওই বদলিনীতি এখন থেকে কঠোরভাবে অনুসরণের চিন্তাভাবনা করছে। তবে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের দাবি এই নীতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মেনে চলা ‘বাস্তবসম্মত’ নয়। অথচ ১৯৯১ সালের আগ পর্যন্তও বিচার বিভাগে প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণের রীতি প্রচলিত ছিল।

বর্তমান বিধান হলো, সব ক্ষেত্রে বিচারক বদলি ও কর্মস্থল নির্ধারণের প্রস্তাব দেবে সরকার। সরকার মনে করে, সংবিধান মতে এই প্রস্তাব দেওয়ার এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্ট রাখেন না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত ৫০ জন বিচারককে বদলির প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দিয়েছেন বলে আইন ও বিচার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এই বিভাগের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এর অধিকাংশই সরকার তামিল করেছে।

্রথম আলোর এক প্রশ্নের জবাবে আইন ও বিচারমন্ত্রী আনিসুল হক ২৬ অক্টোবর অবশ্য স্বীকার করেন, বিচারক বদলির বিষয়ে একটি লিখিত নীতিমালা থাকা দরকার। বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন বলে জানান।

আগামীকাল পড়ুন: বিচারকদের পদোন্নতি বিষয়ে

আরও  পড়ুন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন