default-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকা থেকে নিখোঁজ আট বছরের শিশু জিনিয়াকে উদ্ধার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল সোমবার রাতে তাকে নারায়ণগঞ্জের আমতলা পঞ্চবটি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় লোপা তালুকদার নামের একজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে ডিবি। লোপার বোনের বাসা থেকে জিনিয়াকে উদ্ধার করা হয়।
ডিবির ঢাকা রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিশু বিশ্বাস জানান, কেন, কীভাবে জিনিয়াকে ওখানে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য জানা যায়নি। আটক লোপা তালুকদার নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

মিশু বিশ্বাস জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় জিনিয়ার মা সন্দেহভাজন যে দুজন নারীর কথা বলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন লোপা তালুকদার।

বিজ্ঞাপন

টিএসসি এলাকায় ফুল বিক্রি করত ফুটফুটে শিশু জিনিয়া। ১ সেপ্টেম্বর রাতের কোনো এক সময়ে টিএসসি এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হয়। মা শিমু, ছোট বোন সিনথিয়া (৭) আর ভাই পলাশের (১৭) সঙ্গে জিনিয়া থাকত টিএসসি এলাকাতেই। টিএসসির বারান্দা তাদের রাতে শোয়ার জায়গা। আর দিন কাটত লাল প্লাস্টিকের বালতিতে করে গোলাপ আর বেলি ফুল বিক্রি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে শিক্ষার্থী, টিএসসি এলাকার চায়ের দোকানদার, ফুচকার দোকানদার আর ভ্রাম্যমাণ সিগারেট বিক্রেতাদের সবারই পরিচিত জিনিয়া।

নিখোঁজ হওয়ার পরে জিনিয়ার মা শিমু শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।

বিজ্ঞাপন

ট্রাকচালক স্বামী দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর জিনিয়াসহ তিন সন্তানকে নিয়ে মা শিমু প্রায় পাঁচ বছর আগে টিএসসি এলাকায় আসেন। প্রথম দিকে জিনিয়া আর পলাশ চকলেট বিক্রি করত। সিনথিয়া তখন একেবারেই ছোট হওয়ায় তাকে মা শিমু দেখাশোনা করতেন।

জিনিয়া-পলাশের চকলেট বিক্রির শ দেড়েক টাকা দিয়েই তাদের চলত। এরপর একটু বড় হলে জিনিয়া ফুল বিক্রি শুরু করে, ছোট সিনথিয়াও বোনের সঙ্গে থেকে থেকে এই কাজ করে। আর পলাশ এখন একটা চায়ের দোকানে কাজ করে। জিনিয়াকে না পাওয়ায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে।

মন্তব্য পড়ুন 0